অর্ধশতাব্দীর ভাঙনের অবসান, দৃশ্যমান ৩ হাজার কোটি টাকার তীররক্ষা বাঁধ

দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীর মেঘনার ভয়াবহ নদীভাঙনে ক্ষতবিক্ষত লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগরের মানুষ এবার আশার আলো দেখছেন। ৩ হাজার ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ মেঘনা নদীর তীররক্ষা বাঁধের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ায় দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে প্রকল্পটি। এতে নদীপাড়ের প্রায় ৭ লাখ মানুষের মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি।
দীর্ঘ ৫০ বছরে মেঘনার ভাঙনে লক্ষ্মীপুরের রামগতি, কমলনগর ও সদর উপজেলার মজুচৌধুরীর হাট এলাকার প্রায় ৩৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের বিস্তীর্ণ অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনে হারিয়ে গেছে হাজার হাজার বসতবাড়ি, ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক, বাজার-ঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ভিটেমাটি হারিয়ে বহু পরিবারকে বারবার নতুন ঠিকানা খুঁজতে হয়েছে।
দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ২০২১ সালের ১ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৩ হাজার ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে মেঘনা নদীর তীররক্ষা প্রকল্প অনুমোদন পায়। পরে ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি কমলনগরের সাহেবেরহাটে জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।
৯৯টি প্যাকেজে টেন্ডার আহ্বান করে ৪৩টি অংশে কাজ শুরু হলেও বিভিন্ন সময়ে নির্মাণকাজে ধীরগতি ও সাময়িক স্থবিরতা দেখা দেয়। পরবর্তীতে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে আবারও পুরোদমে কাজ শুরু হয়। বর্তমানে প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
তীররক্ষা বাঁধের কাজ দৃশ্যমান হওয়ায় নদীভাঙনের আতঙ্কে দীর্ঘদিন থাকা মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দ্রুত প্রকল্পের বাকি কাজ শেষ হলে স্থায়ীভাবে নদীভাঙন থেকে রক্ষা পাবেন তারা। একই সঙ্গে বাড়বে কৃষি উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তীররক্ষা বাঁধকে ঘিরে নদীতীরের সৌন্দর্য কাজে লাগিয়ে গড়ে উঠতে পারে নতুন পর্যটনকেন্দ্র। তাদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাহিদ-উজ-জামান খাঁন জানান, প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। আশা করা যাচ্ছে বছরখানেকের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কাজ সম্পন্ন হবে।
চার যুগেরও বেশি সময় ধরে মেঘনার ভাঙনে নিঃস্ব হওয়া হাজারো পরিবার এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছে। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রকল্পের বাকি কাজ শেষ হলে নদীভাঙনের দীর্ঘস্থায়ী অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়ে অর্থনীতি, যোগাযোগ ও জীবনযাত্রায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে রামগতি-কমলনগরে।