পাণ্ডিত্য দেখানোর জন্য সিপিডি (গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ) সব সময় বাজেটের ভুল ধরে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
শুক্রবার (২ জুন) রাজধানীর মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবনে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
এর আগে বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় সিপিডি নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ধনীদের ছাড় দেওয়া হয়েছে তবে মধ্যবিত্তদের চাপে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আদায়ের মরিয়া চেষ্টা রয়েছে যাতে আইএমএফের শর্ত পূরণ করা হয়েছে।
সিপিডির কাজই বাজেটের সমালোচনা করা বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই সংস্থাটি গত ১৪ বছরে সিপিডি বাজেটের প্রশংসা করতে পারেনি। এবছর তো বাজেট প্রস্তাব অধিবেশন চলমান থাকা অবস্থায়ই তারা বলেছে, এই বাজেট উচ্চাভিলাষী, বাজেট বাস্তবায়ন হবে না। সমালোচনা করেই সিপিডি তাদের ফান্ড কালেকশন করে।
অথচ বাংলাদেশের বাজেট বাস্তবায়নের গড় হার ৯৭ শতাংশ। ডলারের মূল্য না বাড়লে আমাদের মাথাপিছু আয় ৩০০০ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যেতো। দেশের জিডিপি বেড়েছে, দারিদ্র্য কমেছে। দারিদ্র্য ৪১ শতাংশ থেকে কমে ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে।
‘আইএমএফের প্রেসক্রিপশনে এ বাজেট’- বিএনপির এমন দাবির প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান আইএমএফের প্রেসক্রিপশনে বাজেট দিতে বাজেটের আগে প্যারিস ছুটে যেতেন সাহায্যের জন্য। বর্তমানে বাংলাদেশের বাজেট কোনোভাবেই সাহায্য নির্ভর নয়। এ বাজেটে ১ লাখ কোটি টাকার কিছু বেশি বৈদেশিক ঋণ নেওয়া হবে।
চলতি বাজেট নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী বলেছেন, বাজেট নিয়ে সমালোচনা থাকবে। ইতিবাচক সমালোচনাকে সরকার সব সময় স্বাগত জানায়।
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, আপনারা বিএনপির দাবি-দাওয়া জানেন। তাদের দাবিতে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ও তারেক রহমানের মুক্তির বাইরে জনমানুষ নিয়ে কিছু থাকে না।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৫তম বাজেট এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০তম এই বাজেট ২০০৮-৯ সালের তুলনায় প্রায় নয়গুণ বড় এবং পিপিপিতে (পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি) ২০০৯ সালের ১০০ বিলিয়ন ডলার জিডিপির তুলনায় এখনকার জিডিপি এক ট্রিলিয়ন প্লাস ডলার, অর্থাৎ প্রায় দশগুণ বড়। যা নিঃসন্দেহে দেশের অগ্রগতি সমৃদ্ধির পরিচায়ক।
এবার বাজেট প্রণয়ন বড় চ্যালেঞ্জ ছিল উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বমন্দা, ইউক্রেন যুদ্ধ, ডলার সংকটের কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে শৈথিল্য আসায় বাজেট প্রণয়ন চ্যালেঞ্জ ছিল। তারপরও এবারের বাজেট গত বছরের তুলনায় প্রায় এক লাখ হাজার কোটি টাকা বেশি।
প্রস্তাবিত এ বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে মোট বাজেটের ১৬ দশমিক ১৮ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আরও মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ে আনার এবং এ খাতে বিভিন্ন ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই বাজেটের সবচেয়ে বড় উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে- এই অর্থবছরেই সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিন্তাপ্রসূত। কোনো রাজনৈতিক দল এ ধরনের সার্বজনীন পেনশন চালুর প্রস্তাব দেয়নি।
১৮-৫০ বছর বয়সের যে কেউ ১০ বছরের জন্য চাঁদা দিয়ে পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারবে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ৫০ এর বেশি বয়স হলেও ১০ বছর চাঁদা দিয়ে পেনশনের সুযোগ রয়েছে।
আয়কর নিয়ে প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের কর ও জিডিপির অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন। গত ১৪ বছরে দেশের জিডিপি প্রায় দশগুণ, বাজেট প্রায় নয়গুণ বৃদ্ধি পেলেও আয়কর দেওয়ার হার বেড়েছে মাত্র তিনগুণ। ২০০৯ সালে ১১ লাখ মানুষ আয়কর দিতো, গত বছর ২৯ লাখ মানুষ আয়কর দিয়েছে। অথচ দেশে অন্তত দুই কোটি মানুষ আয়কর দিতে সক্ষম। কিন্তু মানুষ কর দেয় না। তাই করের আওতা বাড়ানো অযৌক্তিক নয়।