তথ্য-প্রমাণহীন অপপ্রচার: রেলওয়ের উন্নয়নে আফজাল হোসেনের অবদান আড়াল করা যাবে না

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেনকে জড়িয়ে সম্প্রতি একটি অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে “মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করেছেন রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা। তাদের মতে, দীর্ঘ প্রশাসনিক ও প্রকৌশল অভিজ্ঞতার মাধ্যমে রেলওয়ের আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একজন কর্মকর্তাকে পরিকল্পিতভাবে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চলছে।

রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রকৌশলী আফজাল হোসেন দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প পদ্মা সেতু রেল সংযোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তার নেতৃত্বে প্রকল্পের বহু জটিল ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এছাড়া যমুনা রেল সেতু, দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন, পূর্বাঞ্চল আধুনিকায়নসহ একাধিক মেগা প্রকল্পে তার সম্পৃক্ততা ছিল দৃশ্যমান।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা সময় ভিত্তিহীন অভিযোগ ওঠে। কিন্তু অভিযোগ মানেই অপরাধ নয়। এখন পর্যন্ত প্রকৌশলী আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে আদালত বা দুর্নীতি দমন কমিশনের কোনো চূড়ান্ত রায় বা দণ্ড নেই। তারপরও তাকে দোষী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা নৈতিক সাংবাদিকতার পরিপন্থী।

রেলওয়ের একজন সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “আফজাল হোসেন অত্যন্ত দক্ষ ও কর্মমুখী কর্মকর্তা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি দায়িত্বে আছেন মূলত তার প্রশাসনিক সক্ষমতা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতার কারণে।”

প্রতিবেদনে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও কর্মকর্তার নাম জড়িয়ে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তার অধিকাংশেরই কোনো তথ্যপ্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। শুধু “সূত্রের দাবি” ও “অভিযোগ রয়েছে” ধরনের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে একটি সম্মানিত কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র জানায়, বর্তমান সময়ে চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও গতি আনতে কাজ করছেন মহাপরিচালক আফজাল হোসেন। ডিজিটাল টেন্ডারিং, প্রকল্প মনিটরিং ও অবকাঠামোগত সংস্কারে তার সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, দেশের বড় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সফলভাবে কাজ করা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির প্রবণতা নতুন নয়। তবে সত্য যাচাই ছাড়া একপাক্ষিক অভিযোগ প্রকাশ সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

প্রকৌশলী আফজাল হোসেনের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, তিনি তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত “মিথ্যা ও মানহানিকর” তথ্যের বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।