ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনে ঘরমুখী মানুষের বাড়তি চাপ থাকলেও বড় ধরনের কোনো বিপর্যয়ের শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক, রেল ও নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, পুরোনো রেললাইন ও লোকোমোটিভ নিয়েই সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে ঈদযাত্রা পরিচালনা করা হচ্ছে। রোববার কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
রেলমন্ত্রী জানান, ঈদে ট্রেনযাত্রার চাহিদা বরাবরের মতোই অনেক বেশি। তবে যাত্রীদের চাহিদার তুলনায় ট্রেনের সংখ্যা ও সক্ষমতা এখনও পর্যাপ্ত নয়। সাধারণ সময়ে আন্তনগর ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ৩২ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হলেও ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ টিকিট ছেড়ে প্রায় ৪০ হাজার যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “লাখ লাখ মানুষের ট্রেনে যাওয়ার ইচ্ছা থাকে। এই বিশাল ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করাই বড় চ্যালেঞ্জ।”
কমলাপুর স্টেশনে আকস্মিক পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, তিনি পূর্বনির্ধারিত কোনো সূচি ছাড়াই স্টেশনে এসে দুটি ট্রেনে উঠেছেন। যাত্রীদের সন্তুষ্টি, পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তাঁর কাছে সন্তোষজনক মনে হয়েছে। তবে যাত্রীচাপ সামাল দিতে সিটিং সক্ষমতার বাইরেও ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত টিকিট ছাড়তে হয়েছে বলে জানান তিনি।
সকালে কয়েকটি ট্রেন বিলম্বিত হওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, রেললাইনের ওপর ধানের খড় শুকাতে দেওয়ার কারণে একটি ট্রেনের চাকা পিছলে যায়। পরে সেখানে ইঞ্জিন ও কর্মী পাঠিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। এতে তিনটি ট্রেনের চলাচলে বিলম্ব হয়। এর মধ্যে একটি ট্রেন প্রায় ২০ মিনিট, একটি প্রায় এক ঘণ্টা এবং আরেকটি প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত দেরি হতে পারে। পরদিনের শিডিউলে এর প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি আজকের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন। এজন্য স্পেয়ার লোকোমোটিভ ও অতিরিক্ত সক্ষমতা সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঠানো হয়েছে।
রেললাইনের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, দেশে এখনো ১৯৩০, ১৯৪০ ও ১৯৪৫ সালের পুরোনো রেললাইন রয়েছে। একইভাবে দীর্ঘদিনের পুরোনো লোকোমোটিভ ও কোচ দিয়েই রেল চলাচল পরিচালনা করতে হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী রেললাইন, ট্রেন, লোকোমোটিভ ও কোচ বাড়ানো সম্ভব হয়নি বলেও স্বীকার করেন তিনি।
তিনি বলেন, “যেসব স্থানে দুর্ঘটনা বা লাইনচ্যুত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে ঈদের আগে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমরা সতর্ক আছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় হবে না বলে আশা করছি।” রেললাইনের ওপর খড় শুকানোর ঘটনাকে বাস্তব চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অনেক এলাকায় কিলোমিটারের পর কিলোমিটারজুড়ে রেললাইনের পাশে খড় শুকাতে দেওয়া হয়। এগুলো সরাতে গেলে অনেক সময় স্থানীয়দের আপত্তির মুখে পড়তে হয়। এছাড়া সব স্টেশন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত বা সুরক্ষিত নয় বলেও জানান তিনি।
রেলের সার্বিক সেবার মান আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, অনলাইনে টিকিট বুকিং ব্যবস্থায় এবার কোনো সিন্ডিকেট বা অনিয়ম হয়নি এবং যাঁরা আগে বুকিং করেছেন, তাঁরাই টিকিট পেয়েছেন। ঈদ উপলক্ষে আগামীকাল থেকে পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালু করা হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি কোরবানির পশু পরিবহনে তিনটি ক্যাটল ট্রেন চলবে। মন্ত্রী আরও বলেন, ঈদ উপলক্ষে নতুন করে ৫১টি কোচ যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ৮২ থেকে ৮৩টি লোকোমোটিভ সচল রয়েছে। আরও এক-দুটি যুক্ত করা গেলে ৮৫ থেকে ৮৬টি লোকোমোটিভ পরিচালনায় রাখা সম্ভব হবে, যা যাত্রী পরিবহনকে আরও নির্বিঘ্ন করবে।