আজ দেশের ৫২তম বাজেট ঘোষণা

বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার পর এখন পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সরকার ৫১টি বাজেট ঘোষণা করেছে। তবে ক্ষমতায় থেকে একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারই টানা ১৫টি বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে। আজকের বাজেট ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশের ৫২তম বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার।

বুধবার (৩১ মে) বিকেল পাঁচটায় জাতীয় সংসদের ২৩তম অধিবেশন শুরু হয়েছে। শুরু হওয়া এ অধিবেশনেই বৃহস্পতিবার (১ জুন) বিকেল ৩টায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আগামী এক বছর দেশ পরিচালনার সার্বিক ব্যয়ের হিসাব থাকবে এই বাজেটে।

বর্তমান মেয়াদে সরকারের পঞ্চম এবং আগামী নির্বাচনের আগে শেষ বাজেট। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামালেরও পঞ্চম বাজেট। এবারের বাজেট বক্তব্যের শিরোনাম ‘উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় দেড় দশক পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের অভিমুখে।’

ডিজিটাল বাংলাদেশের আরেক ধাপ ওপরে হচ্ছে স্মার্ট বাংলাদেশ। বর্তমান নানা ধরনের সংকটের মধ্যেও স্মার্ট বাংলাদেশ ভিশন ২০৪১-এর স্বপ্ন দেখাবেন অর্থমন্ত্রী।অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তার পঞ্চম বাজেট। একই সাথে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ও অর্থবিল ২০২৩ পেশ করবেন তিনি। এর আগে জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে এগুলো অনুমোদন দেয়া হবে।

জানা গেছে, আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সম্ভাব্য আকার বা মোট ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিল ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, নতুন অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতার শিরোনাম হচ্ছে- ‘উন্নয়নের দেড় দশক : স্মার্ট বাংলাদেশের অভিমুখে’। বাজেট বক্তৃতায় মোট ১১টি অধ্যায় রয়েছে। দীর্ঘ এই বাজেট বক্তৃতায় বর্তমান সরকারের গত দেড় দশকে দেশের আর্থসামাজিক ও অবকাঠামো উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরা হয়েছে।

ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ১ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা বেশি ধরে আসন্ন বাজেটে ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। বাজেটের এই ব্যয় মেটাতে মোট কর আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। এই লক্ষ্যমাত্রা ২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় ৬৭ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা বেশি।

রাজস্ব আদায়ের টার্গেট

আগামী অর্থবছরের জন্য (২০২৩-২৪) প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের ব্যয় চালাতে এনবিআরকে ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের টার্গেট দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র। এর বাইরেও এনবিআর বহির্ভূত কর আদায়ের টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। কর ছাড়া সরকারের আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকা। সরকারের পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ২৮১ কোটি টাকা। কর রাজস্ব আদায়ের অঙ্ক চলতি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬২ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে।

ঘাটতি

নতুন বাজেটে ঘাটতি জিডিপির ৫ দশমিক ২ শতাংশের ঘরে রাখা হয়েছে। টাকার অঙ্কে ঘাটতি বাজেটের পরিমাণ (অনুদানসহ) ২ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা। ঘাটতি মেটাতে বিদেশি ঋণ বাবদ পাওয়া যাবে ১ লাখ ২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। সরকার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন খাত থেকে ঋণ নেবে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ঋণের মধ্যে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থাপনা থেকে নেবে ১ লাখ ২ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে নেবে ১৮ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে নেবে ৫ হাজার কোটি টাকা।

মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি

আজ মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে অনুমোদনের পর জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, যা কার্যকর হবে ১ জুলাই থেকে। আগামী অর্থবছরে বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই সরকার যেভাবেই হোক আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির লাগাম ৬ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যেই টেনে রাখতে চায়। নতুন অর্থবছরের জিডিপি হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। নতুন অর্থবছর মোট জিডিপির পরিমাণ ধরা হয়েছে ৫০ লাখ ৬ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা।

‘উন্নয়নের দীর্ঘ অগ্রযাত্রা পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের অভিমুখে’ শিরোনামকে সামনে রেখে ঘোষিত হবে আসন্ন বাজেট। ডিজিটাল বাংলাদেশের আরেক ধাপ ওপরে হচ্ছে স্মার্ট বাংলাদেশ। বর্তমান নানা ধরনের সংকটের মধ্যেও স্মার্ট বাংলাদেশ ভিশন ২০৪১-এর স্বপ্ন দেখাবেন অর্থমন্ত্রী। উচ্চপ্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা নিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে জিডিপি। আগামী বাজেটে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

বৈদেশিক ঋণ

আগামী অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৮ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা বেশি বৈদেশিক ঋণ আগামী অর্থবছরে নেওয়া হবে। আর ঋণগ্রস্ত বেশি হওয়ায় অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য বেশি টাকা গুনতে হবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে। এছাড়া বাড়ছে সরকারের মূলধনি ব্যয়ও। আগামী অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণ নেওয়া হবে ১ লাখ ২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৮৩ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। এছাড়া অভ্যন্তরীণ খাত থেকে নেওয়া হচ্ছে ১ লাখ ১৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা।

আয়ের লক্ষ্য

আসন্ন বাজেটে মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ আয়ের প্রধান উৎস জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) কর ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা এবং এনবিআরবহির্ভূত কর ২০ হাজার কোটি টাকা আদায় করা হবে। এছাড়া কর ব্যতীত প্রাপ্তি (এনটিআর) আদায়ের লক্ষ্য হচ্ছে ৫০ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি বৈদেশিক অনুদান থেকে ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বৈদেশিক অনুদান সরকারকে পরিশোধ করতে হয় না। ফলে এ খাত থেকে আয়কে রাজস্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সাধারণত ১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত একটি অর্থবছর ধরা হয়। সরকারের আর্থিক আয়-ব্যয়ের হিসাব সংবলিত এই বাজেটে থাকে অনেক হিসাব নিকাশ। সে হিসেবে আগামী ১ জুন ২০২২-২০২৩ অর্থবছর শেষ হবে। বাজেট এলেই মানুষের মনে ধারণা জন্মে, এবার নতুন করে কোন জিনিসের দাম বাড়বে? আর কোনটারই বা কমবে? বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কা বিশ্বের অন্যান্য দেশের বাংলাদেশকেও মাশুল দিতে হচ্ছে। বাজেটের আগে একশ্রেণির ব্যবসায়ী নানা অজুহাতে পণ্যমূল্য বাড়িয়ে দেয়। এবারও তার ব্যত্যয় হয়নি। মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরাই হবে নতুন বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জ। তার ওপর এবারের বাজেট আওয়ামী লীগ সরকারের চলমান শাসনামলের শেষ বাজেট। বলা যেতে পারে ‘নির্বাচনী বাজেট।’ নির্বাচন নিয়ে দেশি-বিদেশি নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে। এর মাঝেও একটি গণমূখী বাজেট প্রণয়ন খুবই কঠিন কাজ।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে যা অনন্য রেকর্ড। গত ২০১৯ সালের ১৩ জুন বৃহস্পতিবার ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের জন্য প্রথম বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আগামী ১ জুন তিনি যে বাজেট উপস্থাপন করবেন সেটি হবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের টানা ১৫ তম বাজেট। আর দেশের ইতিহাসে ৫২তম বাজেট।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা। ১৯৭২-১৯৭৩ অর্থবছরের প্রথম বাজেট পেশ করেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ। আর প্রথম বাজেট পেশ করা হয় ১৯৭২ সালের ৩০ জুন। ১৯৭১ সালের নয় মাসের রক্তাক্ষয়ী যুদ্ধে পাকহানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করে ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হয়। স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং তার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। এরপর দেশে ১০ জন অর্থমন্ত্রী ৫১টি বাজেট দিয়েছেন, এবার নিয়ে জাতি ৫২টি বাজেট পেতে যাচ্ছে।

১৯৭২ সালে জাতীয় সংসদে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে প্রথমটিসহ মোট ৩টি বাজেট ঘোষণা করেন। এর মধ্যে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর সামরিক সরকার এবং তাদের ছত্রছায়ায় বেশ কয়েকটি সরকার দেশ শাসন করেছে। এ সময় দেশে জাতীয় সংসদ সচল ছিল না। সামরিক সরকারগুলো অধ্যাদেশ আকারে বাজেট পেশ করে। সরকারি তথ্য থেকে দেখা যায়, ১৯৭৫ সালে নির্বাচিত সরকারকে অবৈধভাবে উৎখাতের পর ১৯৭৫-১৯৭৬ অর্থবছর ড. আজিজুর রহমান অর্থমন্ত্রী হিসেবে বাজেট ঘোষণা করেন। এরপর সামরিক শাসক মেজর জেনারেল পরবর্তীতে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান নিজে নিজে দেশের সর্বস্ব সেজে ২টি এবং তিনি প্রহসনের হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আরও একবারসহ মোট ৩টি বাজেট ঘোষণা করেন। ড.এমএন হুদা একবার, এরপর ১৯৮০-১৯৮১ ও ১৯৮১-১৯৮২ অর্থবছর পরপর দু’বার সাইফুর রহমান বাজেট ঘোষণা করেন।

জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর এরশাদ ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তার শাসনামলে ১৯৮২ সালে আবুল মাল আবদুল মুহিত ১৯৮২-১৯৮৩ ও ১৯৮৩-১৯৮৪ দুই অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন। ১৯৮৪-১৯৮৫ অর্থবছর থেকে ১৯৮৭-১৯৮৮ অর্থবছর পর্যন্ত পরপর ৪ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন এম.সায়েদুজ্জামান। ১৯৮৮-১৯৮৯ এবং ১৯৯০-১৯৯১ মেজর জেনারেল (অব.) মুনিম দু’বার। এর মাঝে ১৯৮৯-১৯৯০ ড. ওয়াহিদুল হক বাজেট পেশ করেন।

১৯৯১ সালে সামরিক শাসক এইচএম এরশাদকে স্বৈরাচার সরকার আখ্যায়িত করে পতন ঘটানোর পর তত্বাবধায়ক সরকারের প্রবর্তন হয়। ওই সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে এম. সাইফুর রহমান আবার অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি ১৯৯১-১৯৯২ অর্থবছর থেকে ১৯৯৫-১৯৯৬ অর্থবছর পর্যন্ত মোট ৫টি বাজেট পেশ করেন।

মাগুরা নির্বাচন কেলেঙ্কারি বিরুদ্ধে গড়ে উঠা আন্দোলনের মুখে বিএনপি সরকারের পতনের পর তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে শেখ হাসিনার নের্তৃত্বে সরকার গঠিত হয় এবং এসএএমএস কিবরিয়া অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তিনি ১৯৯৬-১৯৯৭ অর্থবছর থেকে ২০০১-২০০২ অর্থবছর পর্যন্ত টানা ৬টি বাজেট পেশ করেন।

২০০১ এর নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার গঠন করে। এম সাইফুর রহমান অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে ২০০০-২০০১ অর্থবছর থেকে ২০০৬-২০০৭ অর্থবছর পর্যন্ত ৫টি বাজেট পেশ করেন। বিরোধীদলের আন্দোলনের মুখে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়। সামরিক বাহিনী সমর্থনপুষ্ট ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে তত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। অর্থ উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়ে ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ২০০৭-২০০৮ ও ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন।

২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতা লাভ করলে অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান আবু মাল আবদুল মুহিত। তিনি ২০০৯-২০১০ অর্থবছর থেকে চলতি ২০১৮-২০১৯ অর্থবছর পর্যন্ত টানা ১০টি বাজেট পেশ করেন। এরপর ২০১৯-২০২০ সালে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে আ হ ম মুস্তফা কামাল তার প্রথম বাজেট পেশ করেন। এবার নিয়ে তিনি তার পঞ্চম বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন।