নতুন অর্থ বছরের বাজেট ৭ লাখ কোটি টাকা: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী অর্থ বছরের জন্য ১ জুন বাজেট ঘোষণা করা হবে। সেই বাজেটের আকার হবে সাত লাখ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার (৩০ মে) গাজীপুরে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন সরকার প্রধান। সেখানে তিনি এ তথ্য জানান।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ধারাবাহিকভাবে বাজেটের পরিমাণ বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের বাজেট ২০০৬ সালে মাত্র ৬১ হাজার কোটি টাকা ছিল। আজকে সেই (গত অর্থ বছর) বাজেট আমরা ৬ লাখ কোটি টাকায় উন্নীত করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের এই যে অর্জন এটা সম্ভব হয়েছে একটি কারণে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে। এরপর অনেক ঝড়-ঝাপ্টা এলেও একটা স্থিতিশীলতা রয়েছে। আর স্থিতিশীলতা থাকলেই দেশ উন্নত হয়।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, যেকোনো উন্নয়নের জন্য দরকার একটি পরিকল্পনা। সেটা আমাদের রয়েছে। আমরা যখন বিরোধী দলে ছিলাম তখন থেকেই এই পরিকল্পনা করি। ২০০৭ সালে আমি যখন জেলে যাই সেই সময়টা নষ্ট করিনি। আমি লিখে রেখেছিলাম, সরকারে গেলে কী করব। ২০২১ সালে বাংলাদেশকে একটি পর্যায়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। আমরা ২০২১ সালে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। ৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে ‍উন্নত সমৃদ্ধশালী দেশ।

স্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সাফল্যের চাবিকাঠি হিসেবে চিহ্নিত করেন প্রধানমন্ত্রী। সরকার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে চায় জানিয়ে তিনি বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য চাই স্মার্ট জনগোষ্ঠী।

শেখ হাসিনা বলেন, আধুনিক যুগে দুঃখজনকভাবে মুসলিম বিশ্বে মাত্র তিনটি নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী গবেষণা ও উন্নয়নে তাদের অপর্যাপ্ত অবদানকে প্রতিফলিত করে। এখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে মুসলমানদের আরও প্রচেষ্টার প্রয়োজন, যাতে তারা বেশি করে অবদান রাখতে পারেন। বিশেষ করে যখন বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, ইন্টারনেট অব থিংস, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং অন্যান্য প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে প্রবেশ করেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আইইউটির মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি সাফল্যের অংশীদার এবং এ প্রতিষ্ঠানের স্বাগতিক দেশ হতে পেরে গর্বিত। আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষা হলো শ্রেষ্ঠত্ব লাভের জন্য একটি আজীবন সাধনা। আমি জেনে আনন্দিত যে, মানসম্পন্ন শিক্ষা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয়তা সামনে রেখে আইইউটি ইসলামী বিশ্বের গুণগত পরিবর্তনে সর্বদা অবদান রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে। আইইউটির গ্র্যাজুয়েটরা প্রকৌশল ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে শুধু বাংলাদেশ এবং ওআইসির সদস্য রাষ্ট্রেই নয়, বরং সারা বিশ্বে তাদের অবদান রেখে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আশা করি, আজকের স্নাতকরা আগামী দিনগুলোতে বিশ্বের নানা প্রান্তের প্রযুক্তিবিদ, উদ্ভাবক এবং বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার মাধ্যমে তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা অব্যাহত রাখবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের জন্য ছাত্রীনিবাস নির্মাণে আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান প্রদান করা হয়েছে। আমি আজ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী স্নাতকের উপস্থিতি দেখে অত্যন্ত আনন্দিত। আমি বিশ্বাস করি, নারী স্নাতকরা তাদের লব্ধ জ্ঞানের দ্বারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে অনন্য অবদান রাখতে সক্ষম হবে। আমি আরও নিশ্চিত করছি যে, আওয়ামী লীগ সরকার ভবিষ্যতেও আইইউটির বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে সহায়তা ও সমর্থন অব্যাহত রাখবে। আমি মনে করি, একটি বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইইউটির স্বীকৃতিকে নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে মুসলিম উম্মাহর সক্ষমতা প্রচারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করা সম্ভব।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কূটনৈতিক দূরদর্শিতায় বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে ওআইসির সদস্যপদ লাভ করে। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গর্বিত স্বাগতিক দেশ এবং এর পরিচালনায় সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা প্রদান করে আসছে। ভবিষ্যতেও আমরা এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।