গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৪৮০ কেন্দ্রের মধ্যে রাতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৪২৬ কেন্দ্রের ফল পাওয়া গেছে। বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, ১৩ হাজার ২০০ ভোটে নৌকার প্রার্থী আজমত উল্লার চেয়ে এগিয়ে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা কাতুন। রাত ১১টায় পাওয়া খবরে জানা যায়, সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীরের মা স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘড়ি প্রতীকের জায়েদা খাতুন পেয়েছেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭০০ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী আজমত উল্লা খান পেয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫০০ ভোট।
এর আগে গতকাল সকাল ৮টা থেকে ৫৭ ওয়ার্ডের ৪৮০টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। শুরুর দিকে কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। কোনো প্রকার অনিয়ম ছাড়া উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট শেষ হয়। সব কটি কেন্দ্রেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএমে) মাধ্যমে ভোট নেওয়া হয়।
সকালে ছেলে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে সঙ্গে নিয়ে কানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুন। ভোট দেওয়ার পর জায়েদা খাতুন বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ! সুষ্ঠুভাবে ভোট হচ্ছে। আমি আশাবাদী।’
এদিকে ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রার্থী আজমত উল্লা খানও। সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে টঙ্গীর দারুস সালাম মাদ্রাসা কেন্দ্রে নিজের ভোট দেন আজমত উল্লা খান। তিনি বলেছেন, ‘জয়ের বিষয়ে আমি আত্মবিশ্বাসী।’
ভোটে সহিংসতার কোন খবর পাওয়া যায়নি। প্রথমবারের মতো ইভিএমে কম সময়ে ভোট দিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন গাজীপুরের ভোটাররা। তবে কিছু কিছু কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট দিতে গিয়ে অনেকের আঙ্গুলের ছাপ মিলতে দেরি হয়েছে।
ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ নিয়েও নিজেদের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন ভোটাররা। তারা বলছেন, কেন্দ্রে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ছিল না কোনো অভিযোগ।
সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আটজন প্রার্থী। এছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৪৬ জন ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৭৯ জন প্রার্থী লড়ছেন। গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৩ জন।
এদিকে চার হাজার ৪৩৫টি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। ১৮টি ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডের মাধ্যমে একইসঙ্গে ৪৬৬টি সিসি ক্যামেরায় সব ভোট কক্ষ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। প্রতিটি ডিসপ্লে ১০ সেকেন্ড পরপর অটো রোটেড করে ভোট গ্রহণ কার্যক্রম দেখা হয়েছে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের কন্ট্রোল রুম থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ শুরু হয়। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত আহসান হাবীব খান, মো. আলমগীর, রাশেদা সুলতানা, আনিছুর রহমান কন্ট্রোল রুমে উপস্থিত থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন।
এ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪৮০টি এবং ভোটকক্ষ ৩৪৯৭টি। মোট ভোটার ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৪৭৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫ লাখ ৯২ হাজার ৭৬২, নারী ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৬৯৬ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৮ জন। নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ১০ হাজার ৯৭০ জন। প্রিসাইডিং অফিসার ৪৮০, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ৩৪৯৭ এবং পোলিং অফিসার ৬৯৯৪ জন।