জাতীয় নির্বাচন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশে আগামী সাধারণ নির্বাচন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে হবে এবং তা অবাধ ও সুষ্ঠু হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সরকারের অধীনে অবশ্যই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে।’

বুধবার ( ২৪ মে) কাতারের দোহার র‌্যাফেলস হোটেলে কাতার ইকোনমিক ফোরামের ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথোপকথন’ শীর্ষক অধিবেশনে তিনি এসব বলেন।  কাতার ইকোনমিক ফোরামের এডিটর-অ্যাট-লার্জ হাসলিন্দা আমিন ওই অধিবেশন পরিচালনা করেন।

সঞ্চালক এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অর্থনীতি-রাজনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন, প্রধানমন্ত্রী তার জবাব দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগে-পরে অন্যান্য দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গেও এই ‘কথোপকথন’ হয় এবং আলাদা আলাদা সঞ্চালকরা বিভিন্ন বিষয়ে তাদের প্রশ্ন করেন।

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে হাসলিন্ডার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সরকারের অধীনে নির্বাচন অবশ্যই অবাধ ও সুষ্ঠু হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর সামরিক স্বৈরশাসকরা সব নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তখন নির্বাচন ছিল একটি ‌‘খেলা’।

তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগ যখন তার অনুপস্থিতিতে তাকে সভাপতি নির্বাচিত করেছিল তখন তিনি দেশে ফিরতে পেরেছেন। তারপর থেকে আমরা গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটের অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য সংগ্রাম শুরু করি। আমাদের সংগ্রাম ছিল অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। আমরা আমাদের প্রত্যেকটি মেয়াদে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করেছি।

বিরোধী দল বিএনপির দাবি প্রসঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তোলেনি। তখন কী ফল হয়েছিল? যে দলটি (বিএনপি) এখন প্রশ্ন তুলছে তারা সংসদে ৩০০ আসনের মধ্যে মাত্র ২৯ পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণই ঠিক করবে কে দেশ চালাবে।

তিনি বলেন, এটা জনগণের ক্ষমতা, আমি জনগণের ক্ষমতা নিশ্চিত করতে চাই। আমি এখানে ক্ষমতা দখল করতে আসিনি। বরং আমি আমাদের জনগণকে ক্ষমতায়িত করতে চাই।

তিনি বলেন, তাদের (জনগণের) সরকার বেছে নেওয়ার অধিকার থাকতে হবে।

এক প্রশ্নের শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, এখন কিছু দল বলেছে তারা অংশ নেবে না। তারা কীভাবে অংশগ্রহণ করবে? কারণ তাদের আমলে দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমাদের মানুষ কষ্ট পেয়েছে। তাদের সময়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়ে যায়। সর্বত্রই ছিল দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও শোষণ।

তিনি আরো বলেন, তারা কখনো জনগণের কথা ভাবেনি। আমার দেশের জনগণের প্রতিদিন একবেলা খাবার পাওয়াই খুব কঠিন ছিল। এমন ছিল পরিস্থিতি।

আইএমএফের ঋণের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা ঋণ পরিশোধ করতে পারে, আইএমএফ শুধু তাদের ঋণ দেয়। কোনো দেশ ঋণ পরিশোধ করতে পারবে কি পারবে না, তা বিবেচনা করে আইএমএফ সেই দেশকে ঋণ দেয়। বাংলাদেশ অবশ্যই ঋণ পরিশোধে সক্ষম।