আসন্ন পাঁচ সিটি কর্পোরেশনে সব দলের অংশগ্রহণে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না বলে জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।
রবিবার (২১ মে ) সুজন’র উদ্যোগে ‘আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন: প্রাসঙ্গিক ভাবনা’ শীর্ষক অনলাইন গোলটেবিল বৈঠকে এ তথ্য জানায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটি।
অনুষ্ঠানে লিখিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এম হাফিজউদ্দিন খান।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুজন সহ সভাপতি বিচারপতি এম এ মতিন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল, সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান, অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, অধ্যাপক আসিফ নজরুল প্রমুখ।
দিলীপ কুমার সরকার বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠেয় এ পাঁচটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন কেমন হবে তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। ফলে সব দলের অংশগ্রহণে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের যে প্রত্যাশা তা পূরণ হচ্ছে না। মানুষের আকাঙ্খা এ নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ তথা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হোক।
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এই পাঁচটি সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পাঁচ সিটির আগের ওই নির্বাচন নিয়ে অনেক অভিযোগ ও প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছিল। পাঁচটি সিটি নির্বাচনে ‘নিয়ন্ত্রণ’ করার এক ধরনের প্রচেষ্টা লক্ষ করা গিয়েছিল।
তিনি বলেন, এখন দেখার বিষয় এ নির্বাচনে কি বিগত নির্বাচনের নেতিবাচক অনুষঙ্গগুলো থাকবে, না কি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অনুষ্ঠিত হবে। নাগরিক সংগঠন হিসেবে আসন্ন পাঁচ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে আমাদের কিছু পর্যবেক্ষণ ও সংশয় রয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে প্রধান বিরোধী দল অংশগ্রহণ করেনি।
বর্তমান নির্বাচন কমিশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রধান বিরোধী দলের মধ্যে আস্থা সৃষ্টির জন্য কাজ করবে বলা হলেও এখনো পর্যন্ত সফল হতে পারেনি। ফলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সব দলকে আস্থায় আনা সম্ভব কি না, সে সংশয় রয়েই যাচ্ছে।
আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার কমিশনের আস্থার সংকট কাটানোর ব্যাপারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে বলে আমাদের আশঙ্কা। বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল ইভিএম ব্যবহারের বিপক্ষে বার বার তাদের মতামত দিয়েছে। নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকেও ইভিএম ব্যবহার থেকে সরে আসার জন্য কমিশনের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে। তবুও সবার মতামতকে উপেক্ষা করে ইভিএম ব্যবহার করে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের কাছে প্রশ্নবোধক থেকে যাচ্ছে।