সারা দেশে নৌ চলাচল শুরু

ঘূর্ণিঝড় মোখা কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করার পর স্বস্তি ফেরে উপকূলীরবাসীর। রোববার সন্ধ্যার পর ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখে যেতে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মোখা নিয়ে সতর্ক সংকেত শুরু হওয়ার পর থেকেই বন্ধ থাকে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহ।

সোমবার (১৫ মে) সকালে ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মো. কবির হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সব ধরনের লঞ্চ ও নৌযান চলাচল শুরু হয়েছে।

কবির হোসেন জানান, নদীপথে এখনও এক নম্বর সতর্ক সংকেত রয়েছে, তবে নৌযান চলাচলে কোনো বাধা নেই।

এদিকে ৫১ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌরুটে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) দৌলতদিয়া ঘাট প্রান্তের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আফতাব হোসেন।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাব দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে পড়েনি। তারপরও নৌ-দুর্ঘটনার কথা চিন্তা করে এই রুটে শনিবার (১৩ মে) ভোর ৬টা থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এরপর ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাব কেটে গেলে আজ সোমবার (১৫ মে) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে পুনরায় এই নৌরুটে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে এই নৌরুটে ১৬টি লঞ্চ চলাচল করছে।

আজ আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে সংকেত নামিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। আজ (১৫ মে ২০২৩) সন্ধ্যা পর্যন্ত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হলো।’

এর আগে, ঘূর্ণিঝড় মোখা বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসতে থাকায় শুক্রবার (১২ মে) রাত সাড়ে ১০টা থেকে সারাদেশে সব ধরণের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এদিকে রোববার (১৪ মে) সকাল থেকে ‘মোখা’ কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম শুরু করে। বিকালে এটি দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়।