ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে মহেশখালীতে সাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ রাখায় চট্টগ্রামের কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। গত শুক্রবার রাত থেকে গ্যাস সংকট শুরু হলেও আজ রোববার সকাল থেকে পুরো নগরীতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে গ্যাসচালিত চারটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ বা আংশিক চালু থাকায় শনিবার সকাল থেকে রাজধানীসহ সারা দেশে ঘন ঘন লোডশেডিং হয়েছে। রাজধানীর সিএনজি স্টেশন ও বাসাবাড়িতেও ছিল গ্যাসের সংকট। সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসের জন্য গাড়ির লম্বা লাইন দেখা গেছে।
পেট্রোবাংলার তথ্যানুযায়ী, দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট। এই চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয় মাত্র ২৮০ কোটি ঘনফুট। এরমধ্যে দেশের গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসে ২২০ কোটি ঘনফুট। বাকি গ্যাস করা হয় আমদানি। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সে আমদানি করা গ্যাস এলএনজি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। যে কারণে সরবরাহে দেখা দিয়েছে ঘাটতি।
চট্টগ্রাম, কুমিল্লায় ঘাটতি হবে এমন কথা বলা হলেও এই ঘাটতির প্রভাব পড়েছে ঢাকার গ্যাস সরবরাহে। গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) জানিয়েছে চট্টগ্রাম, মেঘনাঘাট, হরিপুর ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। যে কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি এখন ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
সূত্রমতে, সারাদেশে এখন বিদ্যুতের চাহিদা ১৪ হাজার মেগাওয়াটের আশেপাশে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ায় ১১ হাজারের বেশি উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় এরইমধ্যে বিতরণ সংস্থাগুলো ঘন ঘন লোডশেডিং দিচ্ছে।
রাজধানী ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা দুই প্রতিষ্ঠান ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) ও ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো) গত দুই দিনে প্রতিদিন ৮০০ মেগাওয়াট করে লোডশেডিং দিচ্ছে। হঠাৎ লোডশেডিং শুরু হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রাহকরা।
চট্টগ্রামে কেজিডিসিএলের মোট গ্রাহক ও সংযোগ আছে ৬ লাখ ১ হাজার ৯১৪টি। এর মধ্যে গৃহস্থালি সংযোগ ৫ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬১টি। দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩২৫ মিলিয়ন ঘনফুট। মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল থেকে পাওয়া যায় ২৭০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। অনেক গাড়িতে গ্যাস নিতে গিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানেও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
শনিবার রাত সোয়া নয়টার দিকে ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ তার ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে মহেশখালির দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই বেশ কয়েকটি গ্যাস চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন আংশিক চালু অথবা বন্ধ থাকছে। ফলে ঢাকাসহ দেশের অনেক জায়গায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।’
উল্লেখ্য, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখা আজ সকালে কক্সবাজার-উত্তর মিয়ানমার উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করে। এটি বিকেল বা সন্ধ্যার মধ্যে অতিক্রম সম্পন্ন করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এবং অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮-১২ ফুট অধিক জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
এছাড়া আরও কয়েকটি জেলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-৭ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।