‘মা’ কথাটি খুব ছোট অথচ ঐ শব্দই পৃথিবীর সবচেয়ে মধুরতম শব্দ। মায়ের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও স্নেহের সঙ্গে অন্য কোন সম্পর্কের তুলনা চলে না। মায়ের স্পর্শেই সন্তান ধীরে ধীরে পূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠে। পৃথিবীর সব ধর্মেই মায়ের মর্যাদাকে উচ্চাসীন করেছে। সন্তানের কাছে মা ফেরেশতার মতো। তিনি সব সময় সন্তানের মঙ্গল কামনায়রত। সকল বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে সন্তান যাতে ভালোভাবে বড় হতে পারে, মানুষের মতো মানুষ হতে পারে এ ধ্যানে ‘মা’ মগ্ন থাকেন।
তাই বিশেষ এই দিনটিকে প্রিয় মানুষটির জন্য রঙিন করে তুলতে পারেন। মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্ব মা দিবস পালন করা হয়। সেই হিসাবে বিশ্ব মা দিবস আজ (১৪ মে)। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি উদযাপন করা হবে।
প্রাচীন গ্রিসে বিশ্ব মা দিবসের পালন করা হলেও আধুনিককালে এর প্রবর্তন করেন এক মার্কিন নারী। ১৯০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আনা জারভিস নামের নারী মারা গেলে তার মেয়ে আনা মারিয়া রিভস জারভিস মায়ের কাজকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য সচেষ্ট হন। ওই বছর তিনি তার সান ডে স্কুলে প্রথম এ দিনটি মাতৃদিবস হিসেবে পালন করেন। ১৯০৭ সালের এক রোববার আনা মারিয়া স্কুলের বক্তব্যে মায়ের জন্য একটি দিবসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন।
১৯১৪ সালের ৮ মে মার্কিন কংগ্রেস মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে ‘মা’ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এভাবেই শুরু হয় মা দিবসের যাত্রা। এরই ধারাবাহিকতায় আমেরিকার পাশাপাশি মা দিবস এখন বাংলাদেশসহ অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চীন, রাশিয়া ও জার্মানসহ শতাধিক দেশে মর্যাদার সঙ্গে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
আজকের দিনটি মাতৃত্ব ও মাতৃসত্ত্বার গুরুত্ব, তাৎপর্য ও পৃথিবীতে আমাদের পদচারণার মূল কাণ্ডারিকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
মাকে ভালোবাসার জন্য বিশেষ কোনো দিনের প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন অনেকেই। কারণ প্রতিটি দিনই মাকে ভালোবাসার জন্য হওয়া উচিত। তবে প্রতিদিনের ভালোবাসাকে আরেকটু বাড়িয়ে বিশেষ করতে এই দিনটির গুরুত্বকে কোনোভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই।
পৃথিবীর সব মায়েরাই বিশ্ব মা দিবসে ভালো থাকুক। সুস্থ থাকুক। যাদের মা কালের নিয়মে ইহলোকের মায়া ত্যাগ করেছে, সেই মায়েরাও যেখানেই থাকুক ভালো থাকুক। বিশেষ এই দিনটিকে রঙিন করে তুলতে পারেন প্রিয় এই মানুষটির জন্য। মায়ের সঙ্গে সময় কাটান। উপহার দিতে পারেন মায়ের কোনো পছন্দের কিছু। হ্যাপি মাদার্স ডে।