বাজারে লাগামছাড়া সব ধরনের আটা ও ময়দার দাম

সকালে নাস্তার টেবিলের রুটি, পরোটা থেকে শুরু করে সিঙ্গারা, পাউরুটি, বিস্কুট কিংবা কেক। বেশিরভাগ মানুষের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় থাকে আটা-ময়দার তৈরি এসব খাবার।
তবে সম্প্রতি আটা আর ময়দার দাম বেড়েছে অনেকটা। গত এক মাসে প্রতি কেজি আটার দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। আর ময়দার দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত। এতে দুশ্চিন্তায় ভোক্তারা।
একজন ক্রেতা বলেন, আটা-ময়দা হচ্ছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য। আমরা সকালের নাস্তাতেও খাই, রাতের নাস্তাতেও খাই। আমরা যখন আউট অব লিমিটে চলে যাই, তখন আমাদের ক্রয় ক্ষমতাটা কমে যায়। আমাদের আয়ের উৎসটা তো বাড়ে নাই।
অন্য একজন ক্রেতা বলেন, আমরা ময়দা দিয়ে পরোটা করি, সমুচা করি। তারপরে অনেক ধরনের নাস্তাই করি। কাজেই ময়দার দাম বাড়লে তো আমাদের জন্য কোন ব্রেকফাস্ট করা যাবে না বা বিকালে নাস্তা করা যাবে না।
অন্যদিকে রাজধানীর খুচরা বাজারে হুট করেই সংকট দেখা যাচ্ছে প্যাকেটজাত ময়দার। খুচরা বিক্রেতারা দাম বৃদ্ধি আর সরবরাহ সংকটের জন্য বড় বড় কোম্পানিগুলোর উপর অভিযোগ এনেছে।
একজন খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, ময়দাতো আজ দুই মাস ধরে নেই। এই গত এক সপ্তাহ ধরে এক প্যাকেট ময়দা ১৫ থেকে ২০ টাকা করে বাড়ছে।
অন্য একজন বলেন, এখন গম পাওয়া যাচ্ছে না। দাম বেশি এজন্য এরা দাম বাড়াচ্ছে।
অন্য একজন খুচরা ব্যবসায়ী এ সম্পর্কে বলেন, দুই কেজি ময়দা গত এক মাস আগে আমাদের কিনা ছিল ১২০ টাকা। গায়ে রেট ছিল এমআরপি ১৪০ টাকা। আমরা ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন দুই কেজি ময়দার গায়ে রেট আছে ১৮০ টাকা।
গম আমদানি কম হওয়াসহ জ্বালানি সংকটের অজুহাত দিয়ে কোম্পানিগুলো ময়দার দাম বাড়াচ্ছে বলে জানান ডিলাররা।
একজন ডিলার বলেন, কোম্পানিও তো কিছু বলে না। তারা বলছে যে বাহিরে নাকি গম আসছে না। এজন্য রেট বাড়তি।
অন্য একজন ডিলার বলেন, কোম্পানি দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। ওরা বিদ্যুতের কারণে প্রডাকশনে যেতে পারছে না।
আটা ময়দার বাজারে সরকারি সংস্থার নজরদারি আরও বাড়ানোর তাগিদ ভোক্তাদের।