বর্ষায় রাজধানীর পানি নামানোর কথা যে খাল দিয়ে, সেই খালই ময়লা আর দখলের ভারে যেন হাঁপিয়ে উঠেছে। পানি প্রবাহের বদলে খালজুড়ে ময়লার ভাগাড়। রাজধানীতে পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই রূপনগর খাল। চিড়িয়াখানা রোডের কমার্স কলেজের পাশে হাজী রোড থেকে শুরু হয়ে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের দ্বিগুণ খাল পেরিয়ে এটি গিয়ে মিশেছে তুরাগ নদীতে।
যদিও ৩ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল এখন দখল-দূষণের শিকার। অবৈধ স্থাপনা, আবর্জনার স্তূপ ও পলি জমে কোথাও কোথাও খালের প্রস্থ ২৫ ফুট থেকে কমে নেমে এসেছে মাত্র ১০ ফুটে। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এখানে মশা অনেক বেশি। বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে অনেক কষ্ট হয়। তারপর গন্ধও আসে। সন্ধ্যার পরে এখানে দাঁড়িয়ে থাকা যায় না। এই খালের এই অবস্থা। বাসাবাড়িতে যে সমস্ত বুয়া কাজ করে, এদেরকে বলে ময়লা ফালাইতে। এরা কী করে? এই ময়লা ডাস্টবিনে না ফালাইয়া, এই ড্রেনের মধ্যে ফালায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর সিটি করপোরেশনের অবহেলায় খালের এই করুণ পরিণতি।
তারা আরও জানান, সিটি করপোরেশনের লোক আইসা পরিষ্কার করে চলে যায়। আবার ময়লা জমে যায়। যে ময়লাটা যাওয়ার মতো কোনো রাস্তা নাই। হয়তো একটা ডালে নাহলে পাইপে আটকে থাকে। খাল পরিষ্কার করা না কারণেই আমাদের বাসাবাড়িতে পানি ওঠে।
খাল উদ্ধার এবং নৌযান চলাচল উপযোগী করার নানা পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আসছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। তবে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য বাজেট সংকটকে দায়ী করেছেন ডিএনসিসি প্রশাসক। তার দাবি, অর্থের অভাবে এতদিন খনন ও সংস্কারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। আর এরই খেসারত দিচ্ছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, দীর্ঘদিন এটা অপরিষ্কারের কারণে এবং যত্রতত্র ময়লা ফেলার কারণে এটা অলরেডি ভরাট হয়ে গেছে। এখানে খাল খননের কোনো বিকল্প নেই। এটা পরিষ্কারের কোনো বিষয় না। তো আমরা ২৯টি খালের মধ্যে রূপনগরের খালটাকেও অগ্রাধিকারভিত্তিতে রেখেছি।
দ্রুত ক্র্যাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে খাল থেকে বর্জ্য ও দখলদার উচ্ছেদ, প্রয়োজনীয় খনন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে জলাবদ্ধতা কমানোর পাশাপাশি ফিরতে পারে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ।