বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রামে আলোচনা সভা, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ আল নোমান।
তবে অনুষ্ঠান চলাকালে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের কথাকাটাকাটি ও সাংবাদিককে শাসানোর অভিযোগ উঠেছে মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহমেদ উল আলম চৌধুরী রাসেলের বিরুদ্ধে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে নিউজডে২৪-এর বার্তা প্রধান সাংবাদিক সাফায়েত মোরশেদ প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য সাইদ আল নোমানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাঁর কাছে যান। এসময় সংসদ সদস্য মঞ্চের নিচে একপাশে দাঁড়িয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে শুরু করেন।
অভিযোগ রয়েছে, বক্তব্য চলাকালে বিএনপি নেতা আহমেদ উল আলম চৌধুরী রাসেল মঞ্চে বসে থেকে সংসদ সদস্যকে বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করে সরে যাওয়ার জন্য বারবার বলতে থাকেন। একই সময়ে সাংবাদিক সাফায়েত মোরশেদ বক্তব্য ধারণের চেষ্টা করলে আব্দুল আলী মজুমদার রানটু নামে এক বিএনপি কর্মী তাকে বারবার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরে সংসদ সদস্য সাইদ আল নোমান তাঁর বক্তব্য শেষ করলে সাংবাদিক সাফায়েত মোরশেদকে মঞ্চে ডাকেন আহমেদ উল আলম চৌধুরী রাসেল। এসময় তিনি সাংবাদিকের সঙ্গে উত্তেজিতভাবে কথা বলেন এবং তাঁর সাংবাদিকতার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বলে অভিযোগ।
সাংবাদিক সাফায়েত মোরশেদের দাবি, এসময় আহমেদ উল আলম চৌধুরী রাসেল তাঁকে বলেন—“তোমাকে এমপি সাহেবকে প্রশ্ন করতে কে বলেছে। তোমার সাংবাদিকতা করার যোগ্যতা কী।”
সাফায়েত মোরশেদ পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য বিষয়টি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলেও রাসেল তাঁকে বারবার শাসাতে থাকেন বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকতার ‘ইথিকস’ শেখানোর কথাও বলেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক।
ঘটনাটি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তাদের অভিযোগ, একজন সাংবাদিক অনুষ্ঠানের সংবাদ সংগ্রহ ও বক্তব্য নেওয়ার দায়িত্ব পালন করার সময় এ ধরনের আচরণ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত মর্যাদার পরিপন্থী।