ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি মুসলিম দেশগুলোকে, বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোকে, তার ভাষায় ‘প্রকৃত শত্রুর’ বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মুসলিমদের মধ্যে বিভাজন তাদের প্রতিপক্ষদের স্বার্থে কাজ করে।
ইসলামী ঐক্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে খামেনির টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে এই বার্তা প্রকাশ করা হয়। বার্তায় মুসলিম ঐক্য, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং পারস্পরিক প্রতিরক্ষার আহ্বান জানানো হয়। এতে বলা হয়, যে কেউ মুসলিমদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে, ‘জেনে বা না জেনে’, তারা ইসলামের শত্রুদের সহায়তা করে।
এতে প্রশ্ন করা হয়, মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে ফিলিস্তিনিরা কি ‘এতটা অসহায়’ অবস্থায় পড়ত?
খামেনি বিশেষভাবে উপসাগরীয় আরব শাসকদের কাছে জানতে চান, উপসাগরীয় দেশগুলোর জনগণ ও সরকারগুলো যদি ‘ইসলামের পতাকার নিচে ঐক্যবদ্ধ’ থাকত, তাহলে ‘পরিচয়হীন দুর্বৃত্তরা’ কি তাদের ভূমি ও সম্পদের প্রতি লোভ করার সাহস করত?
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে উপসাগরীয় আরব রাজতন্ত্রগুলো ইরানের বিপ্লবী আদর্শকে, যার মধ্যে রাজতন্ত্রবিরোধী বক্তব্য এবং আঞ্চলিক প্রভাবও রয়েছে, তাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য হুমকি হিসেবে দেখে আসছে।
বর্তমান সংঘাতের সময় তেহরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি অন্যান্য অবকাঠামোতেও হামলা চালিয়েছে, যা তেহরান ও তার উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের মধ্যকার উত্তেজনাকে আরও স্পষ্ট করেছে।
প্রসঙ্গত, ছয় মাস আগে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের শুরুর দিন মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে খামেনিকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। ওই হামলায় তার বাবা এবং পূর্ববর্তী সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হন।