রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত শনিবার (২৯ আগস্ট) নিউইয়র্কে একটি বহু-ধর্মীয় সংলাপে বক্তব্য দেয়ার সময় ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর জোর দেন। সংগঠনটির হিন্দু-জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রেক্ষাপটে অতীতে তাকে বারবার করা একটি প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেন তিনি।
ভগবত বলেন, আপনি যদি নিজেকে হিন্দু বলতে চান, তাহলে আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে যে সব পথ একই লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যায়। এবং প্রত্যেক মানুষের মর্যাদা আছে। মানুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
এরপর তিনি একটি ঘটনার বর্ণনা দেন। ভগবত বলেন, আমার একটি বক্তৃতা ছিল এবং সেখানে মুসলিম ভাইয়েরাও ছিলেন। তারা আমাকে একটি প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আপনারা একটি হিন্দু সংগঠন, আপনারা হিন্দু রাষ্ট্রের কথা বলেন, তাহলে আমাদের মুসলিমদের কী হবে? আপনারা কি আমাদের তাড়িয়ে দেবেন?’ আমি বলেছিলাম, না, এটাই হিন্দুত্ব নয়।
তিনি আরও বলেন, কোনো হিন্দু যদি মনে করেন যে ভারতে কোনো মুসলিম থাকা উচিত নয়, তাহলে তিনি আর হিন্দু থাকবেন না।
ভগবত ভারতের হরিয়ানার আরেকটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, আমাদের স্বয়ংসেবকেরা সর্বত্র সমানভাবে সেবা করেন। হরিয়ানার আকাশে দুটি বিমান সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল, যা ভারতের অংশ, দাদরি নামের একটি স্থানের ওপর… অধিকাংশ যাত্রীই ছিলেন মুসলিম। আমাদের স্বয়ংসেবকেরাই সেখানে প্রথম পৌঁছেছিলেন। তারা আহতদের সেবা করেছিলেন, তাদের সংখ্যা খুবই কম ছিল; অন্য সবাই মারা গিয়েছিলেন এবং মৃতদেহ উদ্ধার করে দাফনের ব্যবস্থা করেছিলেন।
তিনি বলেন, আরএসএস-র স্বেচ্ছাসেবকেরা সেই সময় কখনও ভাবেননি যে ‘তারা মুসলিম’।
আরএসএস প্রধান আরও দাবি করেন, সেখানে সবচেয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করা সংগঠন ছিল আরএসএস। আমরা এটা করতে পেরেছিলাম কারণ আমরা রাজনীতিতে ছিলাম না। এবং আমরা এসব বিষয়কে প্রচার করে বেড়াই না, কারণ আমরা এর বিনিময়ে কিছু চাই না। কোনো প্রতিদান নয়। আমরা শুধু দিই; আমরা কিছু চাই না।
তিনি সম্ভবত ১৯৯৬ সালের সেই ঘটনাটির কথা উল্লেখ করছিলেন, যেটিকে বিমান চলাচলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাঝ-আকাশের সংঘর্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এতে ৩৪৯ জন যাত্রী ও ক্রু নিহত হন। এই দুর্ঘটনায় সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৭৬৩ (একটি বোয়িং ৭৪৭) এবং কাজাখস্তান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ১৯০৭ (একটি ইলিউশিন ইল-৭৬) পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। জানা যায়, ভাষাগত বাধার কারণে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগে ভুল বোঝাবুঝিই এই সংঘর্ষের কারণ ছিল।