দেশের পোশাক, নিটওয়ার ও অন্যান্য খাতের প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক এবার একযোগে ঈদের ছুটি ভোগ করতে পারছে না। যাতায়াতের ভোগান্তি এড়াতে এবং যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে পোশাকসহ অন্যান্য কারখানার শ্রমিকেরা ধাপে ধাপে ভোগ করবে ঈদের ছুটি। একইভাবে ঈদশেষে কর্মস্থলেও ফিরবে আগে-পরে।
এদিকে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পোশাক কারখানা বন্ধ থাকা অবস্থায় যাতে কোনো অগ্নিদুর্ঘটনা না ঘটে সেজন্য সতর্ক থাকতে সাত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশে মোট ৯ হাজার ৬১৬টি কলকারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় কাজ করেন প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী শনি কিংবা রোববার পবিত্র ঈদুল ফিতর। সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে গতকাল বুধবার থেকে। কিন্তু শ্রমঘন খাত হিসেবে পোশাক শিল্প, নিটওয়ার এবং অন্যান্য খাতের শিল্প কারখানাগুলোতে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি ঈদের ছুটি। কিছু কিছু পোশাক কারখানায় কাজের চাপের পাশাপাশি ঈদে যাতায়াত ভোগান্তি এড়াতে পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
শিল্পাঞ্চল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত ২৮২টি কারখানাসহ চার শতাধিক কারখানায় বুধবার পর্যন্ত শ্রমিকদের ঈদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। কাজের চাপের কারণে এ বছর ৭৯টি কারখানায় ঈদের ছুটি হচ্ছে না। তবে এসব কারখানার শ্রমিক চলতি ঈদের ছুটি তাদের সুবিধামত পরবর্তী সময়ে ভোগ করতে পারবেন।
বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেশ বর্তমানকে সবগুলো পোশাক কারখানায় একযোগে ছুটি না দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, সড়কে চাপ এবং ভোগান্তি এড়াতে বিজিএমইএভুক্ত কারখানা মালিকদের ধাপে ধাপে ছুটি দিতে বলা হয়েছে। যেসব কারখানায় দেরিতে ছুটি দেওয়া হচ্ছে সেসব কারখানা ঈদের পর দেরিতে খুলবে। তবে তিনি জানান, বৃহস্পতিবার থেকে অধিকাংশ কারখানায় ঈদের ছুটি থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশের আটটি শিল্পাঞ্চলের মধ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত ১ নম্বর অঞ্চল আশুলিয়ায় ১ হাজার ৭৯২টি কারখানার মধ্যে ৬৪টি কারখানায় ঈদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। ২ নম্বর অঞ্চল গাজীপুরের মধ্যে ২ হাজার ৩৩৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৩টি কারখানায় ঈদের ছুটি দেওয়া হয়েছে।চট্টগ্রাম ৩ নম্বর অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। চট্টগ্রামের ১ হাজার ৪৮০টি কারখানার মধ্যে ১৬৩টি কারখানায় ঈদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। ৪ নম্বর অঞ্চল নারায়ণগঞ্জের ২ হাজার ২০৭টি কারখানার মধ্যে ১৮টি কারখানায় এবং খুলনায় অঞ্চলে ৩টি কারখানায় ঈদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) আরও কিছু কারখানা ঈদের ছুটি দেওয়া হবে। আর শুক্রবার থেকে বাকি সব কল-কারখানায় ছুটি দেওয়া হবে।
বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন,একসঙ্গে সব কল-কারখানায় ছুটি হলে বাড়ি ফেরা নিয়ে শ্রমিকদের নানা দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়। তাই দেশের বিভিন্ন কারখানার মালিকদের ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। যে সমস্ত কারখানার মালিক কারখানা আগে ছুটি দিয়ছে তারা শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করেছে।