‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: ভূমি প্রতিমন্ত্রী

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা ঠেকাতে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ও জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
আজ বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
চব্বিশের আন্দোলনের স্মৃতিকথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের সময় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে যে অভূতপূর্ব উদ্যম তৈরি হয়েছিল, তা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নির্বিচার গুলিবর্ষণ ও দমন-পীড়ন চালিয়েও দমানো যায়নি। অনেকেই হয়তো সরাসরি রাজপথে ছিলেন না, কিন্তু চরম আন্তরিকতার সাথে আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, নিউমার্কেট মোড় দখলে নেওয়ার সময় গুলিতে আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তামাকমুণ্ডি লেইনের সাধারণ ব্যবসায়ীরা।’
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ‘সাধারণ মানুষের এই যে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ঐক্যবদ্ধ অবস্থান—এটাই জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনা। এই চেতনা ও স্পিরিট যদি আমরা ধরে রাখতে পারি, তবে শেখ হাসিনা জীবনেও আর বাংলাদেশে ফিরে আসতে পারবেন না।’
রাজনৈতিক মতপার্থক্য প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, ‘সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে কিছু মতানৈক্য থাকাটা স্বাভাবিক। সরকারের যৌক্তিক সমালোচনা করা ভালো, তবে জাতীয় স্বার্থে আমাদের জুলাই-আগস্টের মতোই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কোনো বিচার ছাড়া দেশবিরোধী শক্তি যেন পুনরায় রাজনীতিতে ফেরার দুঃস্বপ্ন দেখার সাহস না পায়, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।” একইসাথে, গত বছর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ঘোষিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর আলোকে সরকার সকল প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, এরশাদ উল্লাহ ও সাঈদ আল নোমান, সিডিএ চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম এবং বিসিবি পরিচালক ইসরাফিল খসরু।
এর আগে সকালে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন প্রাঙ্গণে অবস্থিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী এবং জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। এরপর বিএনপি, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন, সুশীল সমাজ ও শহীদ পরিবারের ঢল নামে স্মৃতিতলে।
উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামজুড়ে বন্দরনগরীর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রামের লাভলেইনে অবস্থিত মেরিটাইম মিউজিয়াম সর্বসাধারণের দর্শনের জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উন্মুক্ত রাখা হয়।

দেশ বর্তমান/জেএইচইমন/২০২৬