চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া, চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন এবং জেলার আনোয়ারা উপজেলায় পৃথক তিনটি অভিযানে মোট ১৯ হাজার ৯১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম। অভিযানে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি যাত্রীবাহী বাসও জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) র্যাব-৭ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২ ও ৩ আগস্ট পরিচালিত পৃথক তিনটি অভিযানে ইয়াবার তিনটি চালান উদ্ধার করা হয়।
প্রথম অভিযানে ২ আগস্ট আনোয়ারা উপজেলার তৈলারের দ্বীপ সরকারহাট এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে একটি সিএনজি অটোরিকশায় তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা শাহ আলম (৪৯) ও রফিউল্লাহ (৩৫)-কে আটক করা হয়। পরে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে এক্স-রেতে তাদের পাকস্থলীতে ইয়াবা বহনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। পরবর্তীতে মলত্যাগের মাধ্যমে ধাপে ধাপে তাদের শরীর থেকে মোট ১১ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৭ লাখ টাকা।
দ্বিতীয় অভিযানে ৩ আগস্ট বিকেলে নগরের বাকলিয়া থানার রাজাখালী এলাকায় কক্সবাজার-চট্টগ্রামগামী একটি হানিফ প্লাস পরিবহনের বাসে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বাসটির পেছনের অংশে বিশেষভাবে তৈরি গোপন চেম্বার থেকে ৩ হাজার ৬৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বাসের চালক আবু হানিফ (২৪) ও হেলপার মুজিব (২১)-কে আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১১ লাখ টাকা। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত বাসটি জব্দ করা হয়।
একই দিন বিকেলে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনে অভিযান চালিয়ে স্টুয়ার্ড মাহাবুর রহমান (২০)-কে আটক করা হয়। পরে তার কাঁধের ব্যাগ তল্লাশি করে ৪ হাজার ৮৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
র্যাব-৭ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে মাদক পাচার ও কারবারের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।