অবশেষে ১১৫ দিনের অনিশ্চয়তা, উৎকণ্ঠা ও দুঃসহ অভিজ্ঞতার অবসান ঘটেছে। ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালির কাছে আটকে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা-এর ১৭ জন নাবিক নিরাপদে দেশে ফিরেছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানান, দেশে ফেরা ১৭ জন নাবিকই নিরাপদে ফিরেছেন। দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বিএসসির জেনারেল ম্যানেজার (জাহাজ কর্মী বিভাগ) ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমান বলেন, সাধারণত একজন নাবিক প্রায় ১১ মাস জাহাজে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেকেই নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত চার মাসেরও বেশি সময় জাহাজে আটকে ছিলেন। এতে তারা শারীরিকভাবে ক্লান্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। যাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছিল বা শেষের পথে ছিল, তাদেরই দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
তিনি জানান, দেশে ফেরা সদস্যদের মধ্যে জাহাজের মাস্টার, চিফ অফিসার, প্রকৌশলী, ক্যাডেট ও রেটিংস রয়েছেন। একই সঙ্গে জাহাজের কার্যক্রম সচল রাখতে ১৭ জন নতুন নাবিক ইতোমধ্যে ডারবানে পৌঁছে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
বিএসসি জানিয়েছে, নতুন পণ্য বোঝাই শেষে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাংলার জয়যাত্রা মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করবে। সেখানে পৌঁছানোর পর আরও কয়েকজন নাবিককে রোটেশনের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
২০১৮ সালে নির্মিত ৩৮ হাজার ৮৯৪ টন ধারণক্ষমতার এই জাহাজটিতে মোট ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক দায়িত্ব পালন করছিলেন। সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি চার্টারের আওতায় গত ২৬ জানুয়ারি জাহাজটি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে। পরে আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ১১৫ দিন আটকে থাকে।
গত ২৩ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরে পৌঁছে জ্বালানি গ্রহণ ও হাল পরিষ্কারের (হাল ক্লিনিং) কাজ শেষে জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানের উদ্দেশে যাত্রা করে।