দুর্যোগে মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার চসিক মেয়রের

দুর্যোগের কঠিন সময়ে অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে কেবল সাময়িক ত্রাণ নয়, বরং সর্বোচ্চ নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। গত মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর পূর্ব বাকলিয়া চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় যখন ৪০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে এক বান্ডিল করে নতুন ঢেউটিন তুলে দেওয়া হচ্ছিল, তখন সেটি কেবল কোনো বস্তুর আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর ছিল না, তা ছিল ভেঙে পড়া ঘরবাড়ি পুনর্র্নিমাণের মাধ্যমে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার এক নির্ভরতার বার্তা।
হাজী মোহাম্মদ ইউসুফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রচলিত ত্রাণ-সংস্কৃতির উর্ধ্বে উঠে টেকসই পুনর্বাসনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
জলবায়ু পরিবর্তন এবং বর্ষাকালের টানা বৃষ্টিতে উপক‚লীয় কিংবা নিচু এলাকার মানুষের আবাসন সংকট বারবার উসকে ওঠে। দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে সাহায্য প্রদানকে কেবল দয়া বা করুণা হিসেবে না দেখে সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব হিসেবে বর্ণনা করেন চসিক মেয়র।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ঘরবাড়ির ক্ষতি মানুষের জীবনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনে। এই ঢেউটিন সহায়তা কেবল একটি বস্তুগত উপহার নয়, এটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই পুনর্র্নিমাণের এক আন্তরিক প্রচেষ্টা। প্রতিটি ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে সাহায্যের হাত বাড়ানো হচ্ছে।’
মেয়র স্পট-পুনর্বাসনের ওপর জোর দিয়ে বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মূল লক্ষ্য কেবল তাৎক্ষণিক খাদ্য বা জরুরি সহায়তা বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকা নয়। বরং একটি পরিবার যেন নিজস্ব সম্বল ও সামর্থ্য নিয়ে পুনরায় স্বাবলম্বী হতে পারে, তা নিশ্চিত করাই আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার অগ্রাধিকার।
চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া বা সংলগ্ন নিচু এলাকাগুলোর মূল সংকট শুধু দুর্যোগ নয়, দুর্যোগ-পরবর্তী দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ও পানিবন্দি অবস্থা। বক্তব্যে চসিক প্রধান কেবল প্রশাসনিক দায়িত্বের কথাই স্মরণ করাননি, স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন নাগরিক কর্তব্যের কথাও।
পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার করা, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় খাবার সরবরাহ এবং দ্রæত পানি নিষ্কাশনে সিটি কর্পোরেশনের উদ্ধারকারী দল মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে কেবল প্রশাসনিক উদ্যোগে একটি বাসযোগ্য নগর তৈরি করা সম্ভব নয়। ড্রেন ও নালা-খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলার প্রবণতা ত্যাগ করে নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল ভ‚মিকা পালন করতে হবে। প্রশাসনিক তৎপরতার পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা ও সহযোগিতা যুক্ত হলেই একটি দুর্যোগ-সহনশীল নগরী গড়ে তোলা সম্ভব।
পূর্ব বাকলিয়ার এই উদ্যোগ স্থানীয় নেতৃত্ব ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের এক চমৎকার সমন্বয় তুলে ধরে। হাজী মো. ইউসুফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাজী মো. ওসমান গনির সভাপতিত্বে এবং বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম নিরব ও আবদুল কাদেরের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুল আলম, মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, আনোয়ার হোসেন লিপু, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক মো. মহিউদ্দিন প্রমুখ।