টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। শহরের অধিকাংশ প্লাবিত এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ এখনও কাটেনি।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলেও ভারী বর্ষণ না হওয়ায় জেলার নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বান্দরবান শহরের আর্মি পাড়া, শেরে বাংলা নগর, ইসলামপুর, বালাঘাটা ও আশপাশের নিম্নাঞ্চল থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে। দীর্ঘ কয়েকদিন পানিবন্দী থাকার পর বাসিন্দারা ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে ঘরে ঢুকে পড়া পানিতে নষ্ট হয়েছে আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী, কাপড়চোপড় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক জিনিসপত্র।
আবহাওয়া ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবানে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ মিলিমিটার। সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি পুরোপুরি বিপৎসীমার নিচে এসেছে। তবে সকাল থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।
পানি নেমে যাওয়ার পরও বিভিন্ন এলাকায় কাদা ও ময়লার স্তূপ জমে থাকায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক পরিবার এখনও বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকটে ভুগছেন। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে এখনও জেলা শহরের সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও প্রশাসনের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।