বন্যাকবলিত চট্টগ্রামে ২৮৫ মেডিকেল টিম সক্রিয়, দুই লাখ ওআরএস ও পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুদ: সিভিল সার্জন
সাম্প্রতিক অতি ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যায় চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। প্রাণহানি, পাহাড়ধস, দেয়ালধস, সাপের কামড় এবং পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন।
সোমবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন পর্যায় ও আরবান ডিসপেনসারিসহ মোট ২৮৫টি মেডিকেল টিম সক্রিয় রয়েছে। নিয়মিত টিকাদান (ইপিআই) কার্যক্রম চালু আছে এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার মেডিকেল অফিসাররা মোবাইল মেডিকেল টিমের মাধ্যমে দুর্গত এলাকায় চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্বাস্থ্য সহকারী, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও সিএইচসিপিরা ওআরএস, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ এবং স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
সিভিল সার্জন জানান, জেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাবার স্যালাইন, চিকিৎসা সামগ্রী ও অন্যান্য জরুরি সরঞ্জাম পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ রয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার পর সম্ভাব্য ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দুই লাখ ওআরএস সংরক্ষণ করা হয়েছে। তাঁর তত্ত্বাবধানে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এসব সরবরাহ করা হবে।
তিনি বলেন, বন্যার সময় ডায়রিয়া, পানিবাহিত রোগ, চর্মরোগ, চোখের সংক্রমণ, শিশুদের শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ এবং সাপের কামড়ের ঘটনা বেশি দেখা যায়। এসব রোগ দ্রুত শনাক্তে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বন্যায় এ পর্যন্ত পাহাড়ধসে ৩ জনের মৃত্যু ও ২ জন আহত, দেয়ালধসে ১ জনের মৃত্যু ও ২ জন আহত, পানিতে ডুবে ৭ জনের মৃত্যু, সাপের কামড়ে ৮৫ জন আক্রান্ত, ডায়রিয়ায় ১০২ জন এবং অন্যান্য ঘটনায় ১৯ জন আহত হয়েছেন।
সাপের কামড়ের চিকিৎসা বিষয়ে সিভিল সার্জন বলেন, প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে ১০০টি করে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম মজুদ রয়েছে। একজন রোগীর চিকিৎসায় গড়ে ১০টি পর্যন্ত অ্যান্টিভেনম লাগতে পারে। অতিরিক্ত প্রয়োজন হলে স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিভিল সার্জন কার্যালয় তা নিশ্চিত করবে। তিনি সবাইকে ঝাড়ফুঁক বা কুসংস্কারে বিশ্বাস না করে প্রথমে নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন। উপজেলা হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সম্ভব না হলে রোগীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীনে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ডেঙ্গু ও বন্যাজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। রোগীর সংখ্যা বাড়লে অতিরিক্ত মেডিকেল টিমও প্রস্তুত রয়েছে।
জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, সংস্থাটি ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও রোগ নিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সরবরাহ করেছে। ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।
জনসচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে সিভিল সার্জন বলেন, নিরাপদ পানি পান, খাবার ঢেকে রাখা, ডায়রিয়া হলে দ্রুত ওআরএস সেবন এবং প্রয়োজন হলে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পাশাপাশি সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে বিলম্ব না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
তিনি গণমাধ্যমের প্রতি সঠিক ও যাচাইকৃত স্বাস্থ্য তথ্য প্রচারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বন্যাকবলিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।