ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর শুধু নরওয়ের জয়ই নয়, মাঠের এক ভিন্ন দৃশ্যও সবার নজর কেড়েছে। ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়রা মাঠে বসে বৈঠা চালানোর ভঙ্গি করলেন, সামনে ড্রামের তালে সেই উদযাপনের নেতৃত্ব দিলেন দলের তারকারা। গ্যালারিতেও হাজারো সমর্থক একই ছন্দে অংশ নিলেন। মুহূর্তেই দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
রয়টার্সের মতে, এটি কোনো তাৎক্ষণিক উদযাপন নয়। নরওয়ের এই উদযাপনের নাম ‘ভাইকিং রো’, যা দেশটির ঐতিহাসিক ভাইকিং সংস্কৃতি থেকে অনুপ্রাণিত।
প্রাচীন ভাইকিংরা দীর্ঘ কাঠের যুদ্ধজাহাজে সমুদ্র পাড়ি দিতেন। সেই জাহাজ এগিয়ে নিতে সবাইকে একসঙ্গে একই ছন্দে বৈঠা চালাতে হতো। বর্তমানের এই উদযাপনে সেই ইতিহাসই প্রতীকীভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা সারিবদ্ধভাবে বসে বৈঠা চালানোর ভঙ্গি করেন, আর ড্রামের তালে পুরো দল একসঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে এগিয়ে চলার বার্তা দেয়।
বিশ্বকাপের শুরু থেকেই নরওয়ের সমর্থকদের অন্যতম পরিচয়ে পরিণত হয়েছে এই উদযাপন। শুধু স্টেডিয়াম নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের রাস্তাঘাট, মেট্রো স্টেশন, জনসমাগমের স্থান যেখানেই নরওয়ের সমর্থকেরা একত্রিত হয়েছেন, সেখানেই দেখা গেছে একই দৃশ্য।
ব্রাজিলের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পর এই উদযাপন আরও বেশি আলোচনায় আসে। দুই গোল করে জয়ের নায়ক আর্লিং হালান্ডও সতীর্থদের সঙ্গে ড্রামের তালে উদযাপনে যোগ দেন। মাঠে শুরু হওয়া সেই মুহূর্ত কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখোবার দেখা হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উদযাপন এখন শুধু ফুটবল জয়ের আনন্দ প্রকাশের মাধ্যম নয়; এটি নরওয়ের জাতীয় পরিচয়, ঐতিহ্য এবং দলীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে। খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে যে দৃঢ় বন্ধন তৈরি হয়েছে, ‘ভাইকিং রো’ সেই ঐক্যেরই প্রতিফলন।
ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর রাজধানী অসলোতেও হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে একইভাবে বৈঠা চালানোর ভঙ্গিতে বিজয় উদযাপন করেন। ড্রামের তালে একসঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে তারা যেন পুরো বিশ্বকে জানিয়ে দেন—এটি শুধু একটি ফুটবল দলের সাফল্য নয়, বরং একটি জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও গর্বেরও উদযাপন।
২০২৬ বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পাশাপাশি নরওয়ের এই অনন্য উদযাপনও এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত বিষয়। মাঠের সাফল্যের সঙ্গে ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে যেভাবে একসঙ্গে তুলে ধরেছে নরওয়ে, তা বিশ্বকাপের স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি হয়ে থাকবে।