২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচই এখন অলিখিত ফাইনাল। একটি হার মানেই বিদায়, আর একটি জয় খুলে দেয় শিরোপার পথে নতুন দরজা। এমন পরিস্থিতিতে রাউন্ড অব ১৬-এ মিশরের বিপক্ষে মাঠে নামছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির দল এই ম্যাচ জিততে পারলে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন প্রতিপক্ষ এবং আরও বড় চ্যালেঞ্জ।
রাউন্ড অব ৩২-এ কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নাটকীয় টাইব্রেকারে জিতে শেষ ষোলোতে উঠেছে মিশর। তাই দুই দলের এই লড়াইয়ে উত্তেজনার কমতি থাকবে না।
তবে সমর্থকদের আগ্রহ শুধু শেষ ষোলোর ম্যাচেই সীমাবদ্ধ নয়। অনেকেরই প্রশ্ন, মিশরকে হারাতে পারলে এরপর কার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা?
টুর্নামেন্টের নির্ধারিত নকআউট সূচি অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা যদি মিশরকে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে, তাহলে তাদের প্রতিপক্ষ হবে সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়ার মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী। দুই দলই শক্তিশালী এবং নকআউট ম্যাচে নিজেদের সেরাটা বের করে আনার ক্ষমতা রাখে। ফলে শেষ আটে ওঠার পরও আর্জেন্টিনার জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা।
কোয়ার্টার ফাইনালও জিতে গেলে আর্জেন্টিনার সামনে আসবে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। সেমিফাইনালে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে ব্রাজিল, নরওয়ে, ইংল্যান্ড অথবা মেক্সিকোর মধ্যে যে দল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে জয়ী হয়ে আসবে।
এই পথে সবচেয়ে আলোচিত সম্ভাব্য লড়াই অবশ্য আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিল। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী যদি নিজেদের ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে ওঠে, তাহলে বিশ্বকাপের মঞ্চে আরেকটি সুপারক্লাসিকো দেখার সুযোগ পাবেন ফুটবলপ্রেমীরা। তবে ইংল্যান্ড কিংবা নরওয়েও সমানভাবে বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। নকআউট ফুটবলে কোনো দলকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে, যদি আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালও জিতে ফাইনালে পৌঁছে যায়, তাহলে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ আসবে টুর্নামেন্টের অপর পাশের ব্র্যাকেট থেকে। সেই পথে রয়েছে ফ্রান্স, মরক্কো, পর্তুগাল, স্পেন, বেলজিয়াম কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী দল। অর্থাৎ টানা তিনটি কঠিন নকআউট ম্যাচ জিতেই কেবল ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
সব মিলিয়ে মিশরের বিপক্ষে ম্যাচটি শুধু শেষ ষোলোর লড়াই নয়, বরং আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য বিশ্বকাপ যাত্রার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। প্রথম বাধা পেরোতে পারলেই সামনে অপেক্ষা করবে আরও কঠিন পরীক্ষা। এখন দেখার বিষয়, লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা সেই চ্যালেঞ্জগুলো উতরে আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছাতে পারে কি না।