ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে একাধিক ভবন ধসে পড়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষ উদ্ধারকর্মীদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছেন। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলার তদারকির জন্য একজন জেনারেলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গত জানুয়ারিতে মাদক পাচার সংক্রান্ত অভিযোগে মার্কিন বাহিনী আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই অন্তর্বর্তীকালীনভাবে দেশ পরিচালনা করছেন রদ্রিগেজ।
বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় রাতে মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনেজুয়েলায়। এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া না গেলেও চীনা সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার খবরে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় অন্তত ৩২ জন নিহত এবং প্রায় ৭০০ জন আহত হয়েছেন।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২, যার উৎপত্তিস্থল ছিল ইয়ারাকুয়ি অঙ্গরাজ্যের সান ফেলিপে এলাকায়। এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর আরও শক্তিশালী ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প আঘাত হানে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।
দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভেনেজুয়েলার ইউমারে শহর থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে।
ইউএসজিএস সতর্ক করে জানিয়েছে, এ দুর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ভূমিকম্পের পর ১০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা ৪৪ শতাংশ এবং এক লাখের বেশি প্রাণহানির আশঙ্কা ৩০ শতাংশ।
ভূমিকম্পের পর যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র ভেনেজুয়েলা, যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ এবং ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করলেও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে।