মানিকগঞ্জে সাংবাদিক ও স্কুল শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে সাংবাদিক ও এক স্কুল শিক্ষকের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে চঞ্চল পাল নামে এক ব্যক্তির মাদক সেবীর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত অবস্থায় এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছিলেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর ধারাবাহিকভাবে নির্যাতন, ভাঙচুর ও হয়রানি চালিয়ে আসছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক পীযূষ পাল ও স্কুল শিক্ষক পঙ্কজ পালের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে চঞ্চল পাল বিভিন্ন সময়ে তাদের বৃদ্ধ বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, অশালীন আচরণ এবং নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ঘরবাড়ি, পূজামণ্ডপ ও চারপাশের বেড়া ভাঙচুর করে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেন।

এলাকাবাসী জানান, একাধিকবার স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও চঞ্চল পাল কোনো সমাধান মানেননি। এর আগে তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করলেও পর্যায়ক্রমে আদালতে সেসব মামলায় পরাজিত হন। এরপর থেকেই তিনি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত ৩০ মে পূর্বশত্রুতার জেরে চঞ্চল পাল ধারালো ছুরি দিয়ে সাংবাদিক পীযূষ পাল ও শিক্ষক পঙ্কজ পালকে হত্যার উদ্দেশ্যে অতর্কিতভাবে পিছন দিক থেকে এসে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। হামলার সময় তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত তাদের প্রতিও ক্ষিপ্ত আচরণ করেন।

পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, যেখানে তারা চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হলে এমন নৃশংস হামলার ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।

এ বিষয়ে ঘিওর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, “ঘটনার বিষয়টি শুনে প্রথমে আহতদের চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা শেষে থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”