রাজধানী ঢাকার ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করে জনদুর্ভোগ কমাতে আজ বুধবার (১ এপ্রিল) থেকে বিশেষ উচ্ছেদ অভিযানে শুরু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে এবং কৃত্রিম যানজট নিরসনে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ।
মূলত সড়কের পাশে ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ রেস্টুরেন্ট, যানবাহনের ওয়ার্কশপ এবং স্থায়ী স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করাই এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য। ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, রাজধানীর মগবাজার থেকে বাংলামোটর, ফুলবাড়িয়া, বকশিবাজার থেকে চানখাঁরপুল, নাইটেংগেল মোড় থেকে আরামবাগ, ধোলাইপাড় থেকে যাত্রাবাড়ী, গ্রিন রোড, আনন্দ সিনেমা হল, বসুন্ধরা ও কারওয়ান বাজার এলাকা।
অন্যদিকে, মিরপুরের কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া ও তালতলা। উত্তরার বিএনসিসি সেন্টার থেকে হাউজিং বিল্ডিং। গুলশান এলাকার কাকলী আউটগোয়িং এলাকায়ও অভিযান চলবে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযান চলবে ১ এপ্রিল থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, দোকানের সীমানা পেরিয়ে ফুটপাত বা মূল সড়কে রেস্টুরেন্টের কিচেন, গ্রিল-কাবাবের মেশিন, আসবাবপত্র কিংবা ওয়ার্কশপের টায়ার ও যন্ত্রপাতি রেখে জনপথ আগলে রেখেছেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযান। যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের বৈধ জায়গার বাইরে অতিরিক্ত জায়গা দখল করে জনগণ চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এর আগে গত ২৩ মার্চ ডিএমপির পক্ষ থেকে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। সেখানে জানানো হয়, অনেক রেস্টুরেন্ট ও দোকান তাদের ব্যবসায়িক সরঞ্জাম ফুটপাতে রেখে পথচারীদের মূল রাস্তা দিয়ে হাঁটতে বাধ্য করছে। বিশেষ করে মোটরগাড়ির ওয়ার্কশপগুলো সড়কের একটি লেন দখল করে গাড়ি মেরামত করার ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে ব্যবসায়ীদের নিজ উদ্যোগে অবৈধ মালামাল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যারা এই নির্দেশ অমান্য করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেই আজ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উচ্ছেদ অভিযানের পাশাপাশি হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়েও ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে ডিএমপি। ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, হকারদের জন্য নির্ধারিত এলাকায় শিগগিরই ‘হলিডে মার্কেট’ ও ‘নাইট মার্কেট’ চালুর প্রস্তুতি চলছে। এর ফলে হকাররা যেমন নির্দিষ্ট সময়ে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন, তেমনি সাধারণ মানুষও নির্বিঘ্নে ফুটপাত ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।