৫ দিন পর চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থার নিরসন

কঠোর অবস্থানে চবক

চট্টগ্রাম অফিস
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে আহুত ধর্মঘটে সৃষ্ট অচলাবস্থা অবশেষে ৫ দিন পর কাটলো। নৌ উপদেষ্টার সাথে আন্দোলনকারীদের বৈঠকের পর ধর্মঞট স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়। তবে আন্দোলনকারীদের বিষয়ে চবকও গৃহিত পদক্ষেপে কঠোর ও অনড় অবস্থানে রয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই আন্দোলনরত শ্রমিকদের মধ্য থেকে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা ১৫ কর্মচারিকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের স্বাক্ষর করা এক চিঠিতে এ অনুরোধ জানানো হয়। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থাকেও (এনএসআই) অবহিত করা হয়েছে।
দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা ১৫ জনের মধ্যে রয়েছেন- চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও জাতীয়তাবাদী বন্দর শ্রমিক দলের নেতা মো. হুমায়ুন কবির, সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন, মো. ফরিদুর রহমান, মোহাম্মদ শফি উদ্দিন, রাশিদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. জহিরুল ইসলাম, খন্দকার মাসুদুজ্জামান, হুমায়ুন কবির (এস এস পেইন্টার), মো. শাকিল রায়হান, মানিক মিঝি, মো. শামসু মিয়া, মো. লিয়াকত আলী, আমিনুর রসুল বুলবুল ও মো. রাব্বানী। ‘আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী কর্মচারীদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ তদন্তকরণ’ শীর্ষক চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বন্দরে আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে এসব কর্মচারীকে গত ২ ফেব্রুয়ারি মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
চিঠিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, তদন্তাধীন অবস্থায় তারা যেন দেশত্যাগ করতে না পারেন সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একইসঙ্গে তাদের সম্পদের উৎস ও পরিমাণ যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে দুদকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। বন্দরের চিফ পারসোনাল অফিসার নাসির উদ্দিন চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে আন্দোলন ও কর্মবিরতিতে বন্দরে অস্বাভাবিক পণ্যজট সৃষ্টি হওয়ায় ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে বিজিএমইএ।
এ অবস্থায় তৈরি পোশাক খাতের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলমান রেখে রপ্তানি আদেশ সময়মতো ক্রেতার কাছে পৌঁছানো ও রপ্তানি সক্ষমতা বজায় রেখে দ্রুত পণ্য খালাসের জন্য কাস্টমস ও বন্দরের সব সেবা ২৪ ঘণ্টা সাত দিন চালু রাখার অনুরোধ জানিয়েছে বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে দেওয়া চিঠিতে এ অনুরোধ জানান তিনি। পাশাপাশি বন্দরে অবরোধের কারণে আরোপিত ডেমারেজ চার্জ ছাড়াই পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার অনুরোধও জানানো হয় ওই চিঠিতে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে শ্রমিক-কর্মচারী সংগঠনগুলোর আন্দোলন ও কর্মবিরতির কারণে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্দরের স্বাভাবিক আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। যার কারণে বর্তমানে বন্দরে অস্বাভাবিক পণ্যজটের সৃষ্টি হয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্প একটি অত্যন্ত সময়সংবেদনশীল ও সময়-নির্ভর খাত। নির্ধারিত লিড টাইমের মধ্যে উৎপাদন সম্পন্ন করে পণ্য রপ্তানি করতে হয়। এক্ষেত্রে দ্রুত পণ্য খালাসের নিমিত্তে কাস্টমস ও বন্দর সংক্রান্ত সব কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা ৭ দিন চলমান রাখা আবশ্যক।
সেলিম রহমান বলেন, বন্দরে সৃষ্ট অচলাবস্থায় আমদানিকারকরা নির্ধারিত সময়ে পণ্য খালাসে ব্যর্থ হয়েছেন। এখানে আমদানিকারকের কোনো ত্রুটি বা অবহেলা ছিল না। সুতরাং বর্তমান ডেলিভারিকৃত কোনো আমদানি পণ্যের বিপরীতে গত ৩০ জানুয়ারির পর থেকে ডেমারেজ চার্জ আদায় করা যুক্তিযুক্ত নয়।#