রাজধানীর বঙ্গবাজার স্মরণকালের ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (০৪ এপ্রিল) ভোর ৬টার দিকে আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিসের ৫০টি ইউনিট কাজ করছে। সঙ্গে যোগ দিয়েছে বিমান ও সেনাবাহিনীর সাহায্যকারী দল ও একটি হেলিকপ্টার। আগুন নেভাতে হাতিরঝিল থেকে পানি নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর জানা যায়নি।
এদিকে আগুন নিয়ন্ত্রেণে কাজ করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত ও ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ও বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
তাদের মধ্যে বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ফায়ার ম্যান মেহেদী হাসান (২৩)। এ ছাড়া ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ফায়ারম্যান আতিকুর রহমান রাজন (২৫) ও রবিউল ইসলাম অন্তর (২৫) এবং দোকান কর্মচারী শাহিন (৪৫) ও নিলয় (২৩)।
লালবাগ ফায়ার স্টেশনের ইন্সপেক্টর অর্জুন বারৈ জানান, এনেক্স টাওয়ারের চারতলায় ঢুকেছিলেন মেহেদী। তবে ধোঁয়ায় সেখানে আটকে পড়েন। পরে অন্য পাশ দিয়ে তালা কেটে তাকে বের করা হয়। এর মধ্যেই ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাফি আল ফারুক জানান, ভোর ৬টা ১০ মিনিটে বঙ্গবাজার মার্কেটে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। সংবাদ পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ৬টা ১২ মিনিটে। পর্যায়ক্রমে একের পর এক ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৫০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দিয়েছে। তিনি বলেন, আগুনের সূত্রপাত কিভাবে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আগুনে বঙ্গবাজারের বেশির ভাগ দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

দোকানিদের অভিযোগ, খবর পেয়েও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দেরি করে আসায় চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে আগুন। প্রথমে আগুন লাগে গুলিস্তান মার্কেটে। সেখানে থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বঙ্গবাজার মার্কেটে। এখন পাশের অন্য ভবনেও ছড়িয়ে পড়েছে। কাপড়ের মার্কেট হওয়ায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। তবুও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না আগুন। আশেপাশের ভবনগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে আগুনের ভয়াবহতা।
একে একে মার্কেটের দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। ঈদকে সামনে রেখে কেউ লাখ লাখ টাকা, কেউবা কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু আগুন থেকে কোনো কিছুই উদ্ধার করা যায়নি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে ক্ষতিগ্রস্ত এসব ব্যবসায়ীরা বলেন, সব হারিয়ে এখন কী করব বুঝতে পারছি না।
ভোরে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে অনেক দূর পর্যন্ত। পুরো এলাকা ধোঁয়ায় ছেয়ে য়ায়। কাপড়ের মার্কেট হওয়ায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের মার্কেটেও। এরই মধ্যে মার্কেটের ৫ হাজারের বেশি দোকান পুড়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।