রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তার কাছে আপাতত কোনো ‘সমাধান’ নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, আমরা মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে বলেছি। আমাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে নেবে করে ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও নিচ্ছে না। তারা এখনো আন্তরিক নয়।’
বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে— তারা তাদের জন্মভূমিতে ফিরে যাবে। এটা আমাদের এক নম্বর অগ্রাধিকার। তাদের প্রত্যাবাসন করতে হবে। আমরা আমাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমার কাছে কোনো সমাধান নেই।’
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাতের জেরে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের পদক্ষেপ সর্ম্পকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা খুব জটিল সময়। আমাদের পলিসি হচ্ছে আর একজন রোহিঙ্গাকেও আমরা নেব না। কিন্তু আমরা তো ওদের মারতে পারি না। আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবস্থান নিয়েছে যে, আমরা এদের নেব না। কিছু কিছু যখন আসে, আমার দেখার চেষ্টা করব সেটাকে কীভাবে দেখভাল করা যায়।’
সীমান্ত হত্যা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, একটা লোকও বর্ডারে মারা যাবে না। কিন্তু তারপরও দুর্ঘটনা ঘটে। আমি সবসময় বলি, আমার পাঁচ আঙ্গুল সমান না, কোনো একটা লোক মেরে ফেললে আমাদের বদনামটা হয়। দু’দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, একটা লোকও মারা যাবে না।’
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ অগাস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর কয়েক মাসে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারে এসে আশ্রয় নেয়। আগে থেকে বাংলাদেশে ছিল আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা। বর্তমানে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজার, টেকনাফের ক্যাম্পগুলোতে বসবাস করছে।
মানবিক কারণে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিল্রেও শুরু থেকেই এই নিপীড়িত জনগোষ্ঠীকে নিরাপদে, টেকসই ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফেরত নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জোরালো দাবি জানিয়ে আসছে ।
আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ২০১৭ সালের শেষ দিকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়ে ওই বছর সেপ্টেম্বরে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তিও করে। এরপর ২০১৯ সালে দুই দফা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিবেশ নিয়ে শঙ্কার কথা তুলে ধরে ফিরতে রাজি হননি রোহিঙ্গারা।