বিএনপি যে নির্যাতন করেছে আমরা তার প্রতিশোধ নিতে যাইনি: প্রধানমন্ত্রী

২০০১ সালে বিএনপি যে জুলুম নির্যাতন চালিয়েছিল আওয়ামী লীগ তার প্রতিশোধ নিতে যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বিএনপি মানেই হচ্ছে অত্যাচার-নির্যাতন, দুঃশাসন, লুটপাট, দুর্নীতি জঙ্গিবাদ, বাংলা ভাই। বিএনপির জুলুম-অত্যাচারের সঙ্গে একাত্তরের কোনো তফাৎ দেখি না। তারা যে অত্যাচার করেছে, আমরা কিন্তু তার কিছুই তাদের ওপর করিনি। আমরা প্রতিশোধ নিতে যাইনি, দেশের উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দিয়েছি —মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ২০০১ এর নির্বাচনের পর থেকে আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীর কারো চোখ তুলে নিয়েছে, হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে পিটিয়ে হাড় গুঁড়া গুঁড়া করে দিয়েছে, জেলে নিয়ে গেছে, একেকটা নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে শত শত মামলা দিয়েছে। হয়রানির চরম অবস্থা। সারা বাংলাদেশে ঠিক পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেভাবে এ দেশে নারীদের ওপর অত্যাচার করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, অগ্নি সংযোগ করেছে, বিএনপি জামায়াতকে নিয়ে যখন ক্ষমতায় এলো মনে হলো যেন সেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সেই অত্যাচার-গণহত্যা এরই যেন পুনরাবৃত্তি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বিএনপি নির্বাচন নিয়ে কথা বলে। ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে তো কথা হয়নি। জাতীয়-আন্তর্জাতিকভাবে কেউ তো সে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি। ৩০০ সিটের নির্বাচনে বিএনপি কয়টা সিট পেয়েছে? মাত্র ৩০টা সিট। জাতীয় পার্টি পায় ২৭টা সিট। জাতীয় পার্টি আর কয়েকটা সিট পেলে খালেদা জিয়া বিরোধীদলীয় নেতা হতে পারতেন না। তাহলে এত লাফালাফি কেন? ২০০৮ এর নির্বাচনেই তো এই ফলাফল।

শেখ হাসিনা বলেন, যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকে, তখন দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়। আওয়ামী লীগই দেশের মানুষকে কিছু দিতে পারে। বিএনপিসহ যারাই আগে ক্ষমতায় ছিল, দেশের মানুষকে কিছুই দিতে পারেনি। ২১ বছর এ দেশের মানুষ নির্যাতিত শোষিত ও বঞ্চিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এদের দুঃশাসন চরম পর্যায়ে। আমরা আওয়ামী লীগ অফিসে যেতে পারতাম না। রাজনীতি করার সুযোগ ছিল না। যুব মহিলা লীগ করার পর সব বাধা অতিক্রম করে আমার এই মেয়েরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছে। এই মেয়েদের কিন্তু ওরা ছাড়েনি! একদিকে পুলিশ বাহিনী, আরেকদিকে ছাত্রদল; বিএনপির গুন্ডা বাহিনী। অকথ্য নির্যাতন করেছে আমাদের মেয়েদের ওপর।

শেখ হাসিনা বলেন, যুব মহিলা লীগ করার পর থেকে আমি দেখেছি যে সাহসী ভূমিকা আমাদের যুব মহিলা লীগ নিয়েছে, রাস্তায় নেমেছে। বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে…তারা তো আসলে নারী ক্ষমতায়নে বিশ্বাসই করতো না। আমরা প্রথমবার নারী উন্নয়ন নীতিমালা করলাম। ২০০১-এ বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেটা প্রথমে স্থগিত করে দিলো এবং এমন কতগুলো পরিবর্তন নিয়ে এলো যে, নারীদের কোনো ক্ষমতাই থাকে না।

যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তারের সভাপতিত্বে ও অপু উকিলের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন।

২০০২ সালের ৬ জুলাই গঠিত হয় যুব মহিলা লীগ। সেসময় নাজমা আক্তারকে আহ্বায়ক ও অপু উকিলকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ১০১ সদস্যের কমিটি করা হয়। সংগঠনটির প্রথম সম্মেলন হয় ২০০৪ সালে। এতে নাজমা আক্তারকে সভাপতি ও অপু উকিলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। তিন বছর পর পর সম্মেলনের গঠনতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতা থাকলেও ১৩ বছর পর হয় দ্বিতীয় সম্মেলন। ২০১৭ সালের ১৭ মার্চ যুব মহিলা লীগের সর্বশেষ সম্মেলনে ফের নাজমা আক্তার ও অপু উকিলই নেতৃত্বে আসেন।