২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের রেকর্ড দাম!

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের মাঝে তীব্র আলোচনা ও শোরগোল চলছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা তাদের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই ফাইনাল ম্যাচের টিকিট সাধারণ দর্শকদের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এই বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। আল জাজিরার দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফিফার অফিশিয়াল লাস্ট-মিনিট টিকিট সেলস পোর্টালে এখনো ওপরের ডেক বা সাইডলাইনের ৫টি সেকশন জুড়ে প্রায় ১,১৭৮টি ক্যাটাগরি-২ টিকিট অবিক্রিত রয়েছে, যার প্রতিটির অফিশিয়াল ফেস-ভ্যালু মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে $৭,৩৮০ ডলার। এর বাইরে, মাঠের একেবারে কাছাকাছি থাকা ক্যাটাগরি-১ এর ফ্রন্ট লাইনের ৬৮টি টিকিট বিক্রি হচ্ছে আরও চড়া মূল্যে, যার দাম $১৯,৯৯৫ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ $৩২,৯৭০ ডলার পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে। এমনকি খাবার ও পানীয়সহ প্রিমিয়াম হসপিটালিটি জোনের (যেমন: ট্রফি লাউঞ্জ এবং ট্রফি লাউঞ্জ+) টিকিটগুলোর দাম ধরা হয়েছে $৩২,৫০০ এবং $৩৪,৫০০ ডলার।
টিকিটের এই মাত্রাতিরিক্ত দামের কারণে সাধারণ ফুটবল সমর্থকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও ফিফা কর্তৃপক্ষ এই আকাশচুম্বী মূল্যের পক্ষে অনড় অবস্থান নিয়েছে। আল জাজিরা তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, ওপেন বা সেকেন্ডারি রিসেল মার্কেটে এই ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম $৭,৪৪০.৫০ থেকে শুরু করে অবিশ্বাস্যভাবে সর্বোচ্চ $১১,৪৯৯,৯৯৮.৮৫ ডলার পর্যন্ত তালিকাভুক্ত হতে দেখা গেছে। টিকিট মূল্যের এই বিশাল অসঙ্গতি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো অবশ্য চড়া দামের পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছেন। তিনি রসিকতা করে বলেছেন যে, যদি সত্যি কেউ রিসেল মার্কেট থেকে ২ মিলিয়ন (২০ লক্ষ) ডলার দিয়ে ফাইনালের টিকিট কেনেন, তবে স্টেডিয়ামে তাঁর অভিজ্ঞতা দারুণ করতে তিনি নিজে গিয়ে তাঁকে একটি হটডগ ও কোক খাইয়ে আসবেন। ইনফান্তিনো জোর দিয়ে বলেন, আমেরিকার মুক্ত বাজারে টিকিট চড়া দামে রিসেল করা সম্পূর্ণ বৈধ। ফলে ফিফা যদি টিকিটের দাম কম রাখত, তবে কালোবাজারিরা সব টিকিট কম দামে কিনে নিয়ে সাধারণ দর্শকদের কাছে কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি করত। তাই সাধারণ সমর্থকদের বঞ্চিত করে কালোবাজারিদের পকেট ভরার চেয়ে ফিফা নিজেই চড়া মূল্য নির্ধারণ করেছে, যার থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব আয়ের ৯০ শতাংশের বেশি অর্থ বিশ্বব্যাপী ফুটবলের তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়নে সরাসরি পুনঃবিনিয়োগ করা হবে বলে ফিফা বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে।