বিশ্বকাপের মঞ্চে আজ রূপকথার এক রাত। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হচ্ছে আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল মিসর। কাগজে-কলমে এটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ নয়; আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো অফিশিয়াল টুর্নামেন্টে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন সমসাময়িক ফুটবলের দুই মহাতারকা—লিওনেল মেসি ও মোহাম্মদ সালাহ। বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শুরু হবে ম্যাচটি।
৩৯ বছরের মেসি তার দল নিয়ে বিশ্বকাপ ধরে রাখার মিশনে আছেন। বিপরীতে পুরো মিসর আজ তাকিয়ে আছে তাদের ‘মিসরীয় রাজা’ মোহাম্মদ সালাহর দিকে, যিনি তার দেশকে নিয়ে এসেছেন ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ অভিযানে। আর্জেন্টিনা টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল রাজকীয় ভঙ্গিতে। গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডানকে উড়িয়ে দিয়ে শতভাগ জয় নিয়ে নকআউটে পা রাখে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। তবে রাউন্ড অব ৩২-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচটি তাদের জন্য ছিল এক চরম সতর্কবার্তা। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো সেই ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানের কষ্টার্জিত জয় পেলেও দলের রক্ষণ ও মাঝমাঠের সমন্বয়হীনতা ভাবিয়ে তুলেছে কোচকে।
আজকের ম্যাচে তাই আর্জেন্টিনা একাদশে বড়সড় পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। মাঝমাঠে থিয়াগো আলমাদার জায়গায় লেয়ান্দ্রো পারেদেস কিংবা নিকোলাস গঞ্জালেসকে দেখা যেতে পারে। আক্রমণভাগে মেসির সঙ্গী হিসেবে লাউতারো মার্তিনেস নাকি হুলিয়ান আলভারেস খেলবেন, তা নিয়েও চলছে মধুর সমস্যা। তবে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় স্বস্তি লিওনেল মেসির ফর্ম। ৪ ম্যাচে ৭ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে আছেন এই ফুটবল জাদুকর।
অন্যদিকে মিসরের গল্পটা একদমই ভিন্ন। এর আগে তিনবার বিশ্বকাপে অংশ নিলেও একটি ম্যাচও জিততে না পারা দলটি এবার ফুটবল বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। গ্রুপ পর্বে বেলজিয়াম ও ইরানের মতো পরাশক্তিদের রুখে দিয়ে রানার্সআপ হিসেবে নকআউটে আসে তারা। এরপর রাউন্ড অব ৩২-এ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর টাইব্রেকারের স্নায়ুযুদ্ধে জয় ছিনিয়ে নিয়ে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নেয় শেষ ষোলোতে।
কোচ হোসাম হাসানের অধীনে মিসর দল আজ তাদের চেনা রক্ষণাত্মক কৌশল এবং সালাহ-মারমুশ জুটির কাউন্টার-অ্যাটাকের ওপর ভরসা রাখবে। আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে শুরু থেকেই রক্ষণ জমাট রেখে কাউন্টার অ্যাটাকে ফায়দা তোলাই হবে ফারাওদের মূল লক্ষ্য। সালাহ এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মাত্র ১টি গোল করলেও, বড় ম্যাচে যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়ার ক্ষমতা তার রয়েছে।
ইতিহাস অবশ্য পুরোপুরি আর্জেন্টিনার পক্ষে কথা বলছে। অতীতে দুই দলের মাত্র দুবার দেখা হয়েছে—১৯২৮ সালের অলিম্পিক এবং ২০০৮ সালের একটি প্রীতি ম্যাচে। দুটি ম্যাচেই আর্জেন্টিনা যথাক্রমে ৬-০ ও ২-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। অর্থাৎ, মিসরের বিপক্ষে এখনো অপরাজিত আলবিসেলেস্তেরা। তবে পরিসংখ্যান ভাঙার জন্যই তৈরি হয়, আর চলতি বিশ্বকাপের ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটে ছোট দলগুলোর যে উত্থান দেখা গেছে, তাতে আর্জেন্টিনাকে আজ মাঠের লড়াইয়ে এক চুলও ছাড় দেবে না মিসর।
আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ (৪-৪-২):
গোলরক্ষক: এমিলিয়ানো মার্তিনেস
রক্ষণভাগ: নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেস, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো
মধ্যমাঠ: রদ্রিগো দে পল, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনসো ফার্নান্দেস, থিয়াগো আলমাদা (অথবা লেয়ান্দ্রো পারেদেস)
আক্রমণভাগ: লিওনেল মেসি (অধিনায়ক), লাউতারো মার্তিনেস (অথবা হুলিয়ান আলভারেস)।
মিসরের সম্ভাব্য একাদশ (৪-৫-১ / ৪-২-৩-১):
গোলরক্ষক: মোস্তফা শোবের
রক্ষণভাগ: মোহামেদ হানি, ইয়াসের ইব্রাহিম, রামি রাবিয়া, করিম হাফেজ (চোটের কারণে সংশয় রয়েছে)
মধ্যমাঠ: মারওয়ান আতিয়া, হামদি ফাথি, মোহামেদ লাশিন, ইমাম আশুর, মোস্তফা জিকো
আক্রমণভাগ: মোহামেদ সালাহ (অধিনায়ক), ওমর মারমুশ।