সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংকে ‘হেয়ার কাট’ বাতিল, ৬ সেপ্টেম্বর থেকে স্বাভাবিক লেনদেনের আশ্বাস

সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংকের আমানতকারীদের ওপর আরোপিত ‘হেয়ার কাট’ নীতি বাতিল এবং ইতোমধ্যে কর্তন করা অর্থ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্বাভাবিক নিয়মে ব্যাংকিং লেনদেন শুরুর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংক ভুক্তভোগী আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের চট্টগ্রাম কমিটির ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ব্যাংকের পুনর্গঠন, স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে সংগঠনের পক্ষে নেতৃত্ব দেন সভাপতি মু. আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক হাজ্বি জাহাঙ্গীর হোসেন, সহ-সভাপতি শারমিন আক্তার এবং এ কে এম আলাউদ্দীন আজাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বৈঠকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “গ্রাহক হলো একটি ব্যাংকের হার্ট (হৃৎপিণ্ড), আর আমরা সবসময় এই হার্টের সর্বোত্তম যত্ন নেব।”

বৈঠকে জানানো হয়, আমানতকারীদের ওপর পূর্বে আরোপিত ‘হেয়ার কাট’ নীতি পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। ইতোমধ্যে যেসব গ্রাহকের হিসাব থেকে হেয়ার কাট বাবদ অর্থ কর্তন করা হয়েছে, তা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রাহকরা ব্যাংকে আবেদনের সুযোগ পাবেন এবং ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্বাভাবিক নিয়মে লেনদেন শুরু করতে পারবেন বলে বৈঠকে জানানো হয়। গ্রাহকরা প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পাবেন বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যমান মুনাফার হার নিয়ে আমানতকারীদের অসন্তোষের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। এ বিষয়ে দ্রুত ইতিবাচক সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

ব্যাংকের তারল্য ও অর্থপ্রবাহ বাড়াতে সরকারি ইউটিলিটি বিলসহ অন্যান্য বিল কালেকশন কার্যক্রম সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালনার প্রস্তাবও ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হয়েছে।

এদিকে কোনো আমানতকারী ব্যাংক থেকে সম্পূর্ণভাবে বের হয়ে যেতে চাইলে নিয়ম অনুযায়ী সেই সুযোগ থাকবে বলে জানানো হয়। তবে এ ক্ষেত্রে কোনো মুনাফা প্রযোজ্য হবে না। ব্যাংককে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিকিয়ে রাখতে একসঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থ উত্তোলন না করে ধীরে ধীরে টাকা উত্তোলনের বা ‘স্লোলি এক্সিট’ নীতি অনুসরণের জন্য আমানতকারীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম কমিটির দায়িত্বশীল ভূমিকা ও আমানতকারীদের সহযোগিতার প্রশংসা করে ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠনে সমন্বিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য ব্যাংকিং ব্যবস্থা পুনর্বহালে আমানতকারীদের ধৈর্য ও সহযোগিতা কামনা করেছে উভয় পক্ষ।