রেলওয়ে কল্যাণ ট্রাস্ট নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ
গঠনতন্ত্র না মেনে ব্যবস্থাপনা পরিষদের প্রতিনিধি মনোনয়নের দাবি
বাংলাদেশ রেলওয়ে কল্যাণ ট্রাস্টের শ্রমিক প্রতিনিধি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনী গঠনতন্ত্রের নিয়ম না মেনে একজন প্রার্থীকে ব্যবস্থাপনা পরিষদের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে প্রতিবেদন পাঠানোর অভিযোগ করেছেন নির্বাচিত অপর দুই শ্রমিক প্রতিনিধি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রেলওয়ে কল্যাণ ট্রাস্টের চট্টগ্রাম অঞ্চলের নির্বাচনী এলাকা দুটি। এর মধ্যে ১ নম্বর নির্বাচনী এলাকা ওয়ার্কশপ কারখানা এবং ২ নম্বর নির্বাচনী এলাকা জিআর শপ, ইলেকট্রিক, ডিজেল শপ ও নিউ স্টোর ডিপু। দুই নির্বাচনী এলাকা থেকে মোট তিনজন শ্রমিক প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার বিধান রয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, নির্বাচিত তিন প্রতিনিধির মধ্য থেকে যেকোনো দুজনের সম্মতির ভিত্তিতে একজনকে ব্যবস্থাপনা পরিষদের প্রতিনিধি (ডিজি কমিটি) হিসেবে নির্বাচন করার কথা বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
নির্বাচনের ফলাফলে ২ নম্বর নির্বাচনী এলাকায় মোট ২৩৯ ভোটের মধ্যে মাকসুদুর রহমান বাবু ১৩৩ ভোট পান। তাঁর দুই প্রতিদ্বন্দ্বী যথাক্রমে ৭১ ও ৩৫ ভোট পান। অর্থাৎ মাকসুদুর রহমান বাবু পেয়েছেন প্রায় ৫৫.৬৫ শতাংশ ভোট।
অন্যদিকে ১ নম্বর নির্বাচনী এলাকায় মোট ৭৫০ ভোটের মধ্যে মাহাবুবুর রহমান ৩২২ ভোট এবং তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাহাবুবুল আলম ২৭০ ভোট পান। মাহাবুবুর রহমানের ভোটের হার প্রায় ৪২.৯৩ শতাংশ।
অভিযোগকারীদের দাবি, নির্বাচনের ফলাফল ও গঠনতন্ত্রের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে মাহাবুবুর রহমানকে ব্যবস্থাপনা পরিষদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত দেখিয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচিত অপর দুই প্রতিনিধির সঙ্গে কোনো আলোচনা বা সমঝোতা করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ১১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট চিঠিতে স্বাক্ষর করে বিষয়টি গোপনে পাঠানো হয়। নির্বাচিত অপর দুই প্রতিনিধি বিষয়টি জানতে পেরে গত ২৯ আগস্ট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে ডিজি কমিটি নিয়ে কথা বলেন। তখন ওই কর্মকর্তা এটি তাঁর একক সিদ্ধান্তে গোপনে পাঠানোর কথা স্বীকার করেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি। তারা চিঠির কপি চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া হয়নি; পরে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে চিঠির কপি দেওয়া হয় বলে জানান তারা।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, পরবর্তীতে ওই কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের ফোনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ বিষয়ে রেলওয়ের বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (কারখানা) মোস্তফা জাকির হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার সিদ্ধান্তটা রুল মেনেই করা হয়েছে। আমার সিদ্ধান্ত ভুল হলে আপনারা আপিল করতে পারেন।”
অভিযোগকারীরা বলছেন, নির্বাচনী গঠনতন্ত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মতামত ও সম্মতির ভিত্তিতে ব্যবস্থাপনা পরিষদের প্রতিনিধি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।