রাজধানী ঢাকায় টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকার সড়ক ও অলিগলিতে তৈরি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে ভেতরের অধিকাংশ গলিই এখন হাঁটুসমান পানির নিচে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী, চাকরিজীবী, রিকশাচালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
আজ রবিবার সকালের বৃষ্টিতে মতিঝিল, ফার্মগেট, ধানমন্ডি ২৭, ধানমন্ডি ৩২, তেজতুরী বাজার, শুক্রাবাদ ও মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়সহ এসব এলাকার আশপাশের অলিগলি পানিতে ডুবে গেছে। বৃষ্টি মাথায় নিয়েই নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে গন্তব্যে ছুটতে দেখা গেছে।
সরেজমিন দেখা যায়, মতিঝিল এলাকার রাস্তাঘাট বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে আছে। ছাতা হাতে কিংবা ভিজেই অনেককে বাধ্য হয়ে পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও রিকশা চললেও উল্টে যাওয়ার ভয়ে চালক ও যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক স্পষ্ট।
সড়কের এই দশার কারণে বাজারের দোকানপাটের সামনে পানি জমে থাকায় ক্রেতার উপস্থিতিও ছিল নামমাত্র।
সবচেয়ে বড় বিপত্তি বেঁধেছে সড়কের লুকিয়ে থাকা গর্তগুলো নিয়ে। পানির নিচে গর্ত ঢেকে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সবাইকে। একই চিত্র দেখা গেছে মিরপুর ও নিকুঞ্জসহ রাজধানীর আরও বেশ কিছু এলাকায়।
ফার্মগেট এলাকার রিকশাচালক মনির তার অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের তো পেটের দুঃখে বের হতে হয়। বৃষ্টি দেখে তো কেউ খেতে দেবে না। এই এলাকার পুরো রাস্তায় জায়গায় জায়গায় গর্ত। প্রায়ই গর্তে রিকশা পড়ে চাকা ভেঙে যায়। যাত্রীরা ব্যথা পায়, আমি নিজেও ব্যথা পাইছি।
জলাবদ্ধতার কারণে ব্যবসা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চায়ের দোকানদার হাবিব। তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘সকালবেলা এই হাঁটু পানি পার করে এসে দোকান খুলতে হয়েছে। তবুও কোনো লাভ হয়নি, বেচাকেনা নাই। বৃষ্টি থাকলে মানুষ আসতে পারে না। এই যে দেখেন, দোকান ফাঁকা। শুধু শুধু খুলে বসে আছি।’
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আবিদ হাসান জানান তার ভোগান্তির চিত্র। তিনি বলেছেন, ‘করপোরেট অফিসের তো ছুটি নাই। তাই এই পানি ঠেলে অফিসে যেতে হচ্ছে। কোথায় গর্ত আছে বোঝা যায় না বলে রিকশায় ওঠার সাহস পাচ্ছি না। রিকশা পড়ে গেলে তো ব্যথা পাব। তাছাড়া রিকশার ভাড়াও এখন দুই-তিন গুণ বেশি দিতে হচ্ছে।’
স্থানীয় এক বাড়ির মালিক হাফিজ উদ্দিনের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই বসুমতী বাজার এলাকায় জলাবদ্ধতা এখন নিয়মিত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত থাকলেও তা মেরামতের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে বৃষ্টির সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত ও সড়ক সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
এদিকে মিরপুর-১ এলাকার বাসিন্দা হাসিনা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, আজ ছয় বছর ধরে মিরপুরে আছি। বারবার ভোট আসে, রাস্তা উঁচু করার আশ্বাস পাই, কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ দেখি না। প্রতি বর্ষাতেই আমাদের এই জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ সহ্য করতে হয়।