পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী গড়তে সরকারি ভবনের ছাদ থেকেই অভিযান শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামকে আরও পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি ভবনের ছাদ থেকেই বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করছে জেলা প্রশাসন। আগামী ২৫ জুলাই জেলার সব সরকারি দপ্তর ও সরকারি আবাসিক ভবনের ছাদে একযোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। একই সঙ্গে কর্মসূচিতে ভালো পারফরম্যান্স দেখানো দপ্তরকে পুরস্কৃত করা এবং গাফিলতি প্রমাণিত হলে সরকারি বাসা বরাদ্দ বাতিলসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৯ জুলাই) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিনের সঞ্চালনায় সভায় জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান এবং জেলার সব উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য সমাজ গড়ে তোলা একদিনের কাজ নয়। এজন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজেদের কর্মস্থল ও সরকারি আবাসন থেকেই পরিচ্ছন্নতার চর্চা শুরু করতে হবে।

তিনি বলেন, “আগামী ২৫ জুলাইয়ের ছাদ পরিষ্কার কর্মসূচি আমরা উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করতে চাই। জেলা, উপজেলা এবং অধীনস্থ সব দপ্তরে এটি বাস্তবায়ন করতে হবে। সারা দেশে যেন বোঝা যায়, পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতার ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “নিজের অফিস, নিজের বাসা থেকেই পরিচ্ছন্নতা শুরু করুন। এই দেশ আমাদের, এই মাটির সন্তান আমরা। নগরটিকে বাসযোগ্য করার দায়িত্বও আমাদের সবার।”

কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিটি দপ্তরকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আগে ও পরে ছবি ও ভিডিও জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেন তিনি। এসব মূল্যায়নের ভিত্তিতে আগামী জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় সেরা উদ্যোগ গ্রহণকারী দপ্তরগুলোকে পুরস্কৃত করা হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

সভায় সরকারি আবাসনের ছাদবাগান নিয়ে আসা অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ছাদবাগান একটি ভালো উদ্যোগ হলেও যথাযথ পরিচর্যার অভাবে যদি নিচতলার বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত হন বা পানি চুইয়ে জনভোগান্তি সৃষ্টি হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, “পরিষ্কার বার্তা দিয়ে দিন। নির্দেশনা না মানলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সরকারি বাসা বরাদ্দও বাতিল করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি অফিস, সরকারি আবাসন এবং জনপরিসরে পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই।

সভা শেষে জেলার সব সরকারি দপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনকে আগামী ২৫ জুলাইয়ের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি সফল করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং সার্বিক তদারকি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।