ডেভিড ইমনকে ধরতে পুলিশের বিশেষ অভিযান, হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৮

চট্টগ্রামে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার (১৫ জুলাই) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তাররা হলেন— মো. ইউনুস (৪১), ইমরান হোসেন চ্যাং (৩১), আকবর হোসেন (২৪), মো. সুমন (২৭), মো. মনির ওরফে কেহেরমান (৩৮), মো. গিয়াস উদ্দিন (২১), মো. নয়ন (২০) এবং মোহাম্মদ আবদুল নাহিদ ওরফে ফরহাদ (২৮)।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র, মাদক, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ইউনুসের বিরুদ্ধে পাঁচটি, ইমরান হোসেন চ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ১২টি, আকবর হোসেনের বিরুদ্ধে ছয়টি, সুমনের বিরুদ্ধে ছয়টি, মনির ওরফে কেহেরমানের বিরুদ্ধে সাতটি এবং নয়নের বিরুদ্ধে আটটি মামলা রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডেভিড ইমন ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ বলছে, তিনি বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর (বড় সাজ্জাদ) ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তার বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের বাকলিয়ার জোড়া হত্যা এবং পতেঙ্গার ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকদিন আগে নগরের চকবাজার এলাকার ‘ডিজিটাল ডট নেট’ (ডিডিএন) নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দেওয়ায় গত সোমবার (১৩ জুলাই) ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল প্রতিষ্ঠানটিতে হামলা চালায়। এ সময় অফিসের কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয় এবং নগদ ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার পর মঙ্গলবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর এলাকায় ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশের বিশেষ দল অভিযান শুরু করে।