অপরাধীদের জন্য ‘উন্মুক্ত’ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

১৯৫ সিসি ক্যামেরা বিকল

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে অপরাধ দমন ও নজরদারির জন্য স্থাপিত বিপুলসংখ্যক সিসি ক্যামেরা দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। প্রযুক্তিগত এই নজরদারি ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ায় মহাসড়কে ছিনতাই, চুরি, চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতনের মতো অপরাধ বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকরা।

সম্প্রতি কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের পর মহাসড়কের এই নিরাপত্তা সংকটটি নতুন করে সামনে এসেছে। গত এপ্রিল মাসে চট্টগ্রাম থেকে বাড়ি ফেরার পথে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় একদল পেশাদার ছিনতাইকারীর হামলায় নিহত হন তিনি। পরবর্তী সময়ে র‍্যাব-১১ জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও এই ঘটনা মহাসড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরনের গলদ উন্মোচন করে দিয়েছে।

৫৭২ ক্যামেরার ১৯৫টি বিকল

কুমিল্লা হাইওয়ে কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম হয়ে ফেনী সীমান্ত পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে মোট ৫৭২টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। এর মধ্যে বর্তমানে সচল রয়েছে ৩৭৯টি। বাকি ১৯৫টি ক্যামেরা দীর্ঘদিন ধরে অচল ও অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ একটি বড় অংশ এখন হাইওয়ে পুলিশের সার্বক্ষণিক নজরদারির বাইরে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিস এলাকা, টোল প্লাজা, চান্দিনা বাস স্টেশন, আলেখারচর মোড়, কোটবাড়ি রাস্তার মাথা, চৌদ্দগ্রামের আমানগন্ডা বাজার ও লালবাগ ব্রিজসহ মহাসড়কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জনাকীর্ণ পয়েন্টগুলোর ক্যামেরাই এখন অচল। ফলে এসব এলাকায় কোনো অপরাধ বা দুর্ঘটনা ঘটলে অপরাধীদের শনাক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করতে পারছে না পুলিশ।

৫ আগস্টের পর ভাঙচুর

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাইওয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশব্যাপী সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। সে সময় অনেক সিসি ক্যামেরা ভেঙে নষ্ট করে দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও অর্থায়ন বা কারিগরি জটিলতার কারণে সেগুলোর একটি বড় অংশ এখনো মেরামত করা সম্ভব হয়নি।

বাড়ছে আতঙ্ক ও ক্ষোভ

চান্দিনা বাজার কমিটির সদস্য মাহাবুব বলেন, ‘সিসি ক্যামেরা সচল না থাকায় অপরাধীরা অনেকটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা সহজেই অপরাধ করে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ক্যামেরাগুলো দ্রুত সচল করা দরকার।’

মহাসড়কটি ব্যবহারকারী একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘সম্প্রতি আমাদের পেশার একজন সদস্য মহাসড়কে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। এরপর থেকে ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে এখন আমাদের অনেক সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হচ্ছে।’

প্রশাসনের বক্তব্য

এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম দেশ বর্তশানকে বলেন, ‘অচল ক্যামেরাগুলো মেরামতের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব ক্যামেরা সচল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মহাসড়কের নজরদারি ব্যবস্থাকে পুরোপুরি কার্যকর করার জন্য আমরা কাজ করছি।’