চট্টগ্রামকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও বিনিয়োগবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কানাডার সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকারীদের জ্বালানি ও সংশ্লিষ্ট খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
শুক্রবার কানাডার লাসাল-এমার্ড-ভার্দ্যাঁ আসনের সংসদ সদস্য এবং জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদবিষয়ক মন্ত্রীর সংসদীয় সচিব ক্লদ গুয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
সাক্ষাতে চট্টগ্রামের জ্বালানি সম্ভাবনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ সুরক্ষা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং প্রযুক্তিনির্ভর নগর ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় চট্টগ্রামে একটি ‘কানাডিয়ান স্পেশালাইজড এনার্জি ইকোনমিক জোন’ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এর আওতায় চট্টগ্রামে একটি আধুনিক ও বৃহৎ তেল শোধনাগার (রিফাইনারি) স্থাপনের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
মেয়র বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা পূরণে সক্ষমতা বাড়বে এবং পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল ও নিরাপদ করার সুযোগ তৈরি হবে।
বৈঠকে কানাডা থেকে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহের সম্ভাবনাও আলোচনা করা হয়। কানাডার প্রাকৃতিক সম্পদ ও জ্বালানি খাতের সক্ষমতাকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। কানাডার মতো জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ দেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে এমন একটি জাতীয় জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি করতে হবে, যা শিল্প, ব্যবসা, বিনিয়োগ ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখবে।
চট্টগ্রামের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর এবং জাতীয় আমদানি-রপ্তানি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে সম্ভাব্য জ্বালানি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য শহরটিকে উপযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলে রিফাইনারির পাশাপাশি জ্বালানি সংরক্ষণ ও বিতরণ অবকাঠামো, পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল সেবাসহ বিভিন্ন জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট শিল্প গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
বৈঠকে পরবর্তী ধাপে বাংলাদেশ ও কানাডার সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, জ্বালানি কোম্পানি, বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে প্রকল্পটির কারিগরি ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই, বিনিয়োগ কাঠামো, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিয়ে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।