বেত্রাবতি বাজার। নেপালের নুয়াকোট জেলার শেষের এই গ্রামটি ছিল শিক্ষা-সংস্কৃতি, ইকো টুরিজম এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র। পাখির চোখে এখন সেই গ্রাম নিশ্চিহ্ন। ভবনগুলো যেন কঙ্কাল হয়ে পড়ে আছে।
যেমন কঙ্কাল হয়ে আছে এখানকার স্কুলবাসটি। স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, ব্যাংক, সরকারি অফিস, হোটেল-রেস্তোরাঁ—সব চুরমার করে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে ত্রিশূলীর পানি।
বন্যার ঢল থেকে বেঁচে যাওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আমাদের চার থেকে পাঁচশ বছরের সংস্কৃতি বন্যার পানিতে সব ধুয়ে-মুছে গেছে। এখন অবশিষ্ট কিছুই নেই। ঢলটি যখন ধেয়ে আসে, তখন এই দুই পাহাড়ের সমপরিমাণ উচ্চতায় ছিল। বাড়িঘর সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। এখানে এখন আর থাকার পরিবেশ নেই।
নেপাল-চীন সীমান্তের রসুয়া জেলার প্রাণকেন্দ্র ছিল সাব্রুবেসি শহর। বিশেষ করে এখানকার জনপ্রিয় ট্রেকিং রুটে যত ট্রেকার বা পর্যটক আসত, অধিকাংশই থাকতেন এখানে। সেই সাব্রুবেসি এখন পুরোটাই মাটির নিচে। এমনভাবে শহরটি ধ্বংস হয়েছে, যার কিছুই আর ফিরে পাওয়া যাবে না।
নেপালে ভয়াবহ সেই স্মৃতিচারণ করে আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এখানে পাঁচ থেকে সাত হাজার মানুষের মতো বসবাস করত। বন্যার পানিতে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষই আক্রান্ত হয়েছে।
নেপালের এই অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে শিক্ষাক্ষেত্রে। নিখোঁজ রয়েছেন অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী। তাদের পাশে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার।
এ বিষয়ে নেপালের রসুয়া জেলার শিক্ষা অফিসার দুর্গা প্রসাদ সিলওয়াল স্টার নিউজকে বলেন, স্কুল, কলেজ, হাসপাতালসহ যা কিছুর ক্ষতি হয়েছে, সরকার সবকিছুই মেরামতের উদ্যোগ নিচ্ছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আবার আগের মতো করা হবে।