সামরিক হামলা আর নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালেও ইরানকে আটকাতে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার ইরানকে থামাতে জাতিসংঘের দ্বারস্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ চার দেশ। দেশটির পরমাণু কর্মসূচির লাগাম টানতে একটি প্রস্তাবের খসড়াও তৈরি করেছে দেশগুলো। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর লক্ষ্যে এই খসড়া যৌথভাবে তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি। কূটনীতিকদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
সিবিএস নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, খসড়াটি আগামী সপ্তাহে ভিয়েনায় অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার ( আইএইএ) বোর্ড অব গভর্নর্সের বৈঠকে বিবেচনার জন্য তোলা হতে পারে। তবে কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ডে জমা দেওয়া হয়নি। ফলে এর ভাষা ও বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন আসতে পারে।
পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) অধীনে ইরানকে তার সব পারমাণবিক উপাদান ও কার্যক্রম ঘোষণা করতে এবং সেগুলো শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না তা যাচাইয়ের জন্য আইএইএ পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার দিতে হয়।
২০২৫ সালের জুনে আইএইএ বোর্ড প্রথমবারের মতো দুই দশকের মধ্যে ইরানকে তার পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পালনে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যর্থ ঘোষণা করে। এর মাত্র একদিন পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়।
নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে ইরানের বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদের কাছে পাঠানো হলে তা উচ্চতর আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের হাতে যাবে। নিরাপত্তা পরিষদ চাইলে নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ জব্দসহ আরও বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ রাখে।
তবে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো কঠোর জাতিসংঘ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা সীমিত বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা। কারণ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীন ইরানের মিত্র এবং উভয়েরই ভেটো ক্ষমতা রয়েছে।
খসড়া প্রস্তাবটিতে আইএইএ মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসিকে প্রস্তাবটি এবং আগে গৃহীত সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলো সংস্থার সব সদস্য, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও সাধারণ পরিষদে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে জমা পড়লে আগামী সপ্তাহে ভিয়েনায় অনুষ্ঠেয় আইএইএ বোর্ড অব গভর্নর্সের বৈঠকে ভোট হতে পারে। তবে তার আগে সদস্য দেশগুলোর সংশোধনী প্রস্তাব দেয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে চূড়ান্ত ভোটের আগে খসড়াটির ভাষা পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।