পেরিয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছর। বাবা আর ফিরে আসবেন না। শৈশব পেরিয়ে যৌবনে পা দিয়েছেন, তবুও এই সত্য মানতে নারাজ মন।
এখনও আশায় থাকেন, কোনো এক মধ্যরাতে কলিংবেল বেজে উঠবে, দরজায় কড়া নাড়বেন নিখোঁজ প্রিয়মুখ।
গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনেরা জানান, পাঁচই আগস্টের পরে আমরা মনে করেছিলাম, আমার ভাই ইফতেখার আহমেদ দিনারসহ সুমন ভাই, ইলিয়াস আলী ভাই—তারা ফিরে আসবেন। কিন্তু এখনও অনেক দিন কেটে গেছে। আমরা শেখ হাসিনার বিচারটা চাই। আমার ছেলের বিচারটা যেন সুষ্ঠু হয়। ভবিষ্যতে যেন আর বাংলাদেশে এই ‘গুম’ বলতে কোনো শব্দ না থাকে।
গুমের শিকার পরিবারগুলোর এখনও দিন কাটে অনিশ্চয়তার মাঝে, দেয়ালের ছবির সঙ্গে কথা বলে। নির্বাচিত সরকারের আমলেও গুমের বিচারের ধীরগতিতে হতাশ তারা।
বিচারিক প্রক্রিয়ার ধীরগতিতে হতাশা প্রকাশ করে স্বজনেরা বলেন, আমার দুটি ভাই এখন পর্যন্ত নিখোঁজ আছে। আমার মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান। অথচ আমার মামলার গতি দেখে আমি অসন্তুষ্ট। শেখ হাসিনাকে কখনোই বাংলাদেশে আমরা চাই না যে ফিরুক। সে যতগুলো অন্যায়-অত্যাচার করেছে এই ১৭ বছরে, আমরা তার নির্যাতিত।
তাদের দাবি, সরকার লাশ বুঝিয়ে দিতে না পারুক, অন্তত গুমের বিচার যেন এদেশে হয়। গুম প্রতিরোধে নতুন যে দুটি আইন সংসদীয় কমিটিতে যাচ্ছে, তাতে যেন মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত থাকে।
এ বিষয়ে মায়ের ডাক-এর সমন্বয়ক ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, এই আইনটা অবশ্যই যেন শক্তিশালী হয় এবং কার্যকরভাবে প্রণয়ন করা হয়, যাতে স্বচ্ছ জবাবদিহিতার মাধ্যমে স্বচ্ছ বিচার আমরা পাই। আমরা সেটাই চাই।
এদিকে বাংলাদেশের মানবাধিকারকর্মী মো. নূর খান লিটন বলেন, মূলত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্টতায় তো ঘটনাগুলো ঘটে। সেখানে সেই ঘটনাগুলোর স্বাধীন তদন্তের একটা ব্যবস্থা থাকা দরকার। এক বাহিনী দিয়ে আরেক বাহিনীর ব্যাপারে তদন্ত করাবেন, বা স্ব-বাহিনী তদন্ত করবে—তার মধ্য দিয়ে প্রকৃত সত্য ঘটনা বেরিয়ে আসার সুযোগ কম।
গুমের মূল কারিগর আওয়ামী লীগের ফেরার পথ চিরতরে সিলগালা করে দেয়ার দাবি স্বজনহারাদের।