বয়স মাত্র ১৮। অথচ দলবদলের বাজারে দাম উঠেছে ৮ কোটি ১৪ লাখ পাউন্ড! লিলের তরুণ মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদ্দিকে দলে ভিড়িয়ে চমক দেখাল ম্যানচেস্টার সিটি। মরক্কোর এই প্রতিভার সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি করেছে ইংলিশ জায়ান্টরা। পারফরম্যান্সভিত্তিক শর্ত পূরণ হলে ট্রান্সফার ফিতে আরও ৪২ লাখ পাউন্ড যোগ হবে।
বুয়াদ্দিকে দলে টানার মধ্য দিয়ে নতুন রেকর্ডও গড়েছে সিটি। ইংলিশ শীর্ষ লিগের কোনো ক্লাবের ২০ বছরের কম বয়সী খেলোয়াড়কে কেনার ক্ষেত্রে এটিই এখন সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফি। আগের রেকর্ডটি ছিল রোমিও লাভিয়ার। ২০২৩ সালে সাউদাম্পটন থেকে চেলসিতে যোগ দেওয়ার সময় ৫ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ডে দলবদল করেছিলেন তিনি।
নতুন ঠিকানায় বুয়াদ্দির জার্সি নম্বর ৩২। সিটিতে পা রেখেই নিজের উচ্ছ্বাস লুকাননি এই তরুণ। জানান, ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলা ছিল তার স্বপ্ন।
বুয়াদ্দি বলেন, ‘আজকের দিনটি আমার ও আমার পরিবারের জন্য সত্যিই বিশেষ। আমার কাছে ম্যানচেস্টার সিটিই বিশ্বের সেরা ক্লাব। এখানে আসতে পারা এবং নিজেকে সিটির খেলোয়াড় বলতে পারা আমার স্বপ্ন ছিল।’
শুধু ক্লাবের নাম নয়, সিটির ফুটবল দর্শনও মুগ্ধ করেছে বুয়াদ্দিকে। বহু বছর ধরে সিটির খেলা অনুসরণ করা এই মিডফিল্ডার বলেছেন, তাদের মানসম্পন্ন ও জয়ের মানসিকতার ফুটবলই তাকে আকৃষ্ট করেছে।
বুয়াদ্দির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও কম আলোচনার নয়। ২০২৬ বিশ্বকাপে মরক্কোর কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথে ছয় ম্যাচের পাঁচটিতে মূল একাদশে ছিলেন তিনি। বিশ্বমঞ্চে তার পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর। শেষ পর্যন্ত বাজি ধরেছে সিটি।
লিলের মূল দলে অভিষেক ২০২৩ সালে। এরপর ফরাসি ক্লাবটির হয়ে ৯৬ ম্যাচ খেলেছেন বুয়াদ্দি। গত মৌসুমে লিগ ওয়ানে লিলের তৃতীয় হয়ে মৌসুম শেষ করার পেছনেও ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
সিটির মাঝমাঠে পরিবর্তনের ঝড়ের মধ্যেই এল বুয়াদ্দির আগমন। এবারের গ্রীষ্মে রদ্রিকে ৬ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে বার্সেলোনা, তিজ্জানি রেইন্ডার্সকে ৫ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডে আল-কাদসিয়াহ এবং নিকো গনজালেজকে ৫ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডে নিউক্যাসলে ছেড়ে দিয়েছে সিটি।
তাই বুয়াদ্দিকে ঘিরে প্রত্যাশাটাও আকাশচুম্বী। ১৮ বছরের তরুণকে যখন এত বড় অঙ্কে দলে টানা হয়, তখন প্রশ্ন একটাই-দামি এই বাজিকে মাঠে কতটা সার্থক করে তুলতে পারেন বুয়াদ্দি?