চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জে বিএসআরএম কোম্পানির চালান থেকে চুরি হওয়া ১২ টন ১০০ কেজি লোহার রড উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ১৪ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে জোরারগঞ্জ থানাধীন বিএসআরএম কোম্পানি থেকে বিভিন্ন সাইজের ১৩ টন লোহার রড ট্রাকযোগে সুনামগঞ্জে পাঠানোর সময় চালান থেকে রড চুরি হয়। ঘটনার পর চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।
চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হালিমের তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, এসআই মো. সাদ্দাম হোসেন, এএসআই মো. ইসমাইলসহ পুলিশের একটি দল তদন্তে নামে। আধুনিক প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৯ আগস্ট বারইয়ারহাট এলাকা থেকে মো. রিয়াদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন তারাবো এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্রাকের হেলপার মো. হাদিছ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাগুরার মহম্মদপুর থানাধীন জাঙ্গালিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবুল বাশার ওরফে বাঁশিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, আবুল বাশার ওরফে বাঁশির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই চক্রের মূলহোতা হিসেবে জাহাঙ্গীরের নাম শনাক্ত করা হয়। পরে তার বসতঘর এবং মহম্মদপুর বাজারের ‘আয়ান এন্টারপ্রাইজ’ নামের দোকানে অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া ১২ টন ১০০ কেজি লোহার রড উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া ফরিদপুরের মধুখালী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রড পরিবহনে ব্যবহৃত চুরি যাওয়া ট্রাকটিও খালি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং আন্তঃজেলা পুলিশের সমন্বিত সহযোগিতায় অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। চুরি ও সংশ্লিষ্ট চক্রের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।