কয়েক মাস ধরে ইসলামী ন্যাটো গঠনের গুঞ্জনের পর সম্প্রতি পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরব একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে। এখন শোনা যাচ্ছে বাড়তে পারে এই জোটের কলেবর। জোটে যোগ দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র আরেকটি মুসলিম দেশ। এ কথা জানিয়েছেন খোদ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তায়েপ এরদোয়ান।
তিনি বলেছেন, সম্প্রতি তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মিসর যোগ দিতে পারে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট কায়রোর যোগদানকে ‘সম্ভব’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, চুক্তিটি ভবিষ্যতে আরও সদস্য অন্তর্ভুক্তির জন্য উন্মুক্ত।
আল জাজিরার আরবি চ্যানেলে রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় প্রচারিত হতে যাওয়া ‘আল মুকাবালা’ অনুষ্ঠানের জন্য দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান বলেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে কোনো একটি স্বাক্ষরকারী দেশ বহিরাগত হামলার শিকার হলে অন্যদেরও ঐক্যবদ্ধভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার রয়েছে।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, এই চুক্তি বিশ্বকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে চুক্তির সম্প্রসারণের সম্ভাব্য বিকল্পগুলোর মধ্যে মিসরের অংশগ্রহণও রয়েছে।
গত শুক্রবার পবিত্র নগরী মক্কায় এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন। চুক্তিটি ‘মক্কা প্যাক্ট’ নামেও পরিচিত।
এতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার সঙ্গে বিশ্লেষকেরা ন্যাটোর আর্টিকেল ৫-এর তুলনা করেছেন। তবে ইসলামাবাদের কর্মকর্তারা ন্যাটোর সমতুল্য হিসেবে চুক্তিটিকে ব্যাখ্যা করা কিংবা এটিকে কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত বলে মনে করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।
সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও কথা বলেন। এর মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা এবং সিরিয়া, গাজা ও লেবাননের যুদ্ধ।