বেলুয়ার শান্ত নদীতে ভাসে বৈঠাকাটার শতবর্ষী হাট

ভোরের আলো ফোটার আগেই পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার বৈঠাকাটার বেলুয়া নদীতে জড়ো হয় শত শত ডিঙি নৌকা। সপ্তাহে দুদিন, শনিবার ও মঙ্গলবার বসে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই বৈঠাকাটার ভাসমান হাট।

স্থানীয় কৃষকেরা বিলের ভাসমান বাগান থেকে তোলা টাটকা শাক-সবজি, ফলমূল ও চারা নিয়ে আসেন এখানে। সূর্য ওঠার আগেই জমে ওঠে কেনাবেচা।

হাটে আলু, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, কাঁচা পেঁপে, করলা, কাঁকরোল, আখ, পানি কচু, কচুর লতি, শসা, কাঁচা কলা, আমড়া, নারিকেল, লালশাক, পুঁইশাকসহ নানা ধরনের সবজিসহ বিক্রি হয় ফল ও চারা। সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে এসব পণ্য কিনে নেন পাইকাররা।

স্থানীয় কৃষক নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘হাটের দিন ভোরের আগেই বিলের ভাসমান ধাপ থেকে টাটকা সবজি তুলে নৌকায় করে বাজারে নিয়ে আসেন। রাসায়নিক ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদিত এসব সবজি হাটে আনার পরপরই বিক্রি হয়ে যায়। এতে মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই ন্যায্য দাম পান কৃষকেরা।’

স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘পূর্বপুরুষদের সময় থেকে বেলুয়া নদীতে এই ভাসমান হাট বসছে। সময়ের সঙ্গে এর পরিধি ও পরিচিতি বেড়েছে। এটি শুধু এলাকার অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ নয়, নাজিরপুরের ঐতিহ্যেরও অন্যতম প্রতীক।’

এই হাটের আরেকটি আকর্ষণ নদীতেই ভাসমান চা ও নাশতার দোকান। ছোট নৌকায় গ্যাসের চুলা ও কেটলি বসিয়ে বিক্রি হয় গরম চা। অন্য নৌকায় তৈরি হয় গরম ভাজি। কেনাবেচার ফাঁকে কৃষক, পাইকার ও ক্রেতারা চা-নাশতা উপভোগ করেন নৌকায় বসেই।
ভোর থেকেই ফায়জুল হক, রাসেল বেপারী ও ইউনুস শেখের মতো স্থানীয় ক্ষুদ্র পাইকাররা ট্রলার ও নৌকা নিয়ে উপস্থিত হন হাটে। তারা কৃষকদের কাছ থেকে পাইকারি দরে বিভিন্ন সবজি, ফল ও চারা কিনে সংগ্রহ করেন। পরে এসব পণ্য ট্রাকে করে পাঠানো হয় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আড়তে।

স্থানীয় ক্ষুদ্র পাইকার ফায়জুল হক ও রাসেল বেপারীর জানান, প্রতি হাটে বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য কেনাবেচা হলেও এখনো সেখানে আধুনিক হিমাগার, প্যাকেজিং সুবিধা ও স্থায়ী শেড নেই। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আধুনিক অবকাঠামো গড়ে উঠলে বৈঠাকাটার ঐতিহ্যবাহী ভাসমান হাট আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে।