১৮তম নৌপ্রধান হচ্ছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১৮তম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। আগামী ২৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে তিনি বর্তমান নৌপ্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
দীর্ঘ সামরিক জীবনে অপারেশনাল, প্রশাসনিক, প্রশিক্ষণ ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রিয়ার অ্যাডমিরাল আজীমের নেতৃত্বে দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নৌ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ থেকে শিক্ষা জীবন সম্পন্ন করে ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। রয়্যাল মালয়েশিয়ান নেভিতে মৌলিক নৌ কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ শেষে এক্সিকিউটিভ শাখায় কৃতিত্বের সঙ্গে কমিশন লাভ করেন।
পেশাগত জীবনে অসামান্য দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি নৌবাহিনী প্রধানের প্রশংসাপত্র, ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (DSCSC) থেকে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন অ্যাওয়ার্ড এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (NDC) আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স (AFWC) থেকে সেরা ব্যক্তিগত গবেষণাপত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া ভারতের INS Venduruthy থেকে অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার (ASW) প্রশিক্ষণ শেষে সেরা শিক্ষার্থী পুরস্কার লাভ করেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে যুদ্ধজাহাজের অধিনায়ক, চট্টগ্রাম ও ঢাকা নৌ অঞ্চলের কমান্ডার, সাবমেরিন কমান্ডার এবং বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
নৌ সদর দপ্তরে পরিকল্পনা, অপারেশন ও বহুজাতিক কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সামরিক নেতৃত্বের পাশাপাশি কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
ব্যক্তিজীবনে রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম একজন বইপ্রেমী, লেখক ও গলফ খেলোয়াড়। দাবা, বাস্কেটবল, টেবিল টেনিস এবং সমসাময়িক বিশ্বরাজনীতির প্রতিও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। তিনি বাংলা, ইংরেজি ও মালয় ভাষায় দক্ষ এবং ফরাসি ভাষার প্রাথমিক জ্ঞান রাখেন। তাঁর লেখা বিভিন্ন প্রবন্ধ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্লু ইকোনমির নিরাপত্তা, সাবমেরিন সক্ষমতার উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক নৌ সহযোগিতা আরও জোরদার হতে পারে।
একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষা এবং পরিবর্তিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সূত্র: আইএসপিআর